আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) নির্দেশনা অনুসরণ করে জুলাই-আগস্ট গণহত্যা মামলার আসামি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি প্রচার না করতে দেশের সব ধরনের গণমাধ্যমের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানিয়েছে সরকার।
আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এর আগে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) তাঁর বক্তব্য প্রচার বন্ধ রাখা ও আগে প্রকাশিত বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বিভিন্ন মাধ্যম থেকে অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (এনসিএসএ) ও দেশের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে প্রযোজ্য আইনের বিধান উল্লেখ করে গণমাধ্যমকে দণ্ডিত আসামির বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সরকারের ভাষ্য, অধিকাংশ গণমাধ্যম আদালতের নির্দেশনা ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ নির্দেশনা অনুসরণ করলেও কিছু গণমাধ্যম এখনো দণ্ডিত আসামির বক্তব্য প্রচার করছে, যা নিয়ে সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগকে সর্বোচ্চ সম্মান করে। যেসব গণমাধ্যম শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত রয়েছে, তাদের প্রতি সরকার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।
সরকার দেশের সব টেলিভিশন, সংবাদপত্র, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আইসিটির নির্দেশনা মেনে শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি প্রচার না করার জন্য আবারও বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।
বিবৃতির শেষে সরকার আশা প্রকাশ করে, জাতীয় ঐক্য ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখতে দেশের সব গণমাধ্যম আগের মতোই দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করবে।