স্কুলে ভর্তিতে লটারি বাতিল: প্রতিক্রিয়া
স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত ‘তড়িঘড়ি ও অপরিকল্পিত’। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজন ছিল পর্যাপ্ত গবেষণা, তথ্য-উপাত্ত এবং অংশীজনদের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা।
হঠাৎ করে এভাবে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেটা আগে-পরে ভেবে দেখা হয়নি। কোনো গবেষণা বা অংশীজনদের মতামত ছাড়াই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সময় ছিল, আরও আলোচনা করে—ভালোমন্দ বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত।
শিক্ষামন্ত্রী আলোচনা করার কথা বললেও কার সঙ্গে কী ধরনের আলোচনা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। অভিভাবকেরা এ প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় অংশীজন। তাঁদের সঙ্গেও কোনো কার্যকর আলোচনা হয়েছে বলে মনে হয় না।
লটারি পদ্ধতি মূলত নগরভিত্তিক স্কুলগুলোতে চালু ছিল। গ্রামাঞ্চলে তো আগে থেকেই ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে। এখন শহরেও পরীক্ষা চালু হলে অল্প বয়সী শিশুদের ওপর অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ সৃষ্টি হবে, যা শিশুমনের জন্য ক্ষতিকর। ছয় বছরের একটি শিশুর কাজ হওয়া উচিত খেলাধুলা ও স্বাভাবিক বিকাশ। কিন্তু এখন তাকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করতে হবে। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী পরিবারের অভিভাবকদের জন্য এটি আরও কঠিন হয়ে পড়বে। তাঁরা নিজেরাই অনেক সময় শিক্ষিত নন—সন্তানকে কীভাবে প্রস্তুত করবেন?
আগে অন্তত লটারির মাধ্যমে ভাগ্যের জোরে হলেও অনেক নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশু ভালো স্কুলে পড়ার সুযোগ পেত। এখন পরীক্ষা চালু হলে সে সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে যাবে।
কোচিং-বাণিজ্য বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। দ্রুতই আমরা দেখতে পাব বিভিন্ন স্কুলে ভর্তির কোচিং শুরু হয়ে গেছে। এটি একধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতার জন্ম দেবে।
প্রত্যেক শিশুই নিজস্ব মেধা ও সম্ভাবনা নিয়ে জন্মায়। এত অল্প বয়সে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের মেধা যাচাই করার চেষ্টা শিক্ষাবান্ধব নয়। বিকল্প হিসেবে এমন একটি পদ্ধতি ভাবা উচিত, যা শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করে।