হোম > জাতীয়

অনলাইনে হেরোইন তৈরির কাঁচামাল বিক্রির অভিযোগ, অভিযানে আটক ১

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখে ‘ই-কেম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ছবি: ডিএনসি

অনলাইনে হেরোইন তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে এমন রাসায়নিক বিক্রির অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ অভিযানে এসিটিক এ্যানহাইড্রাইড ও এসিটোনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির আইটি ম্যানেজারকে আটক করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ বুধবার ডিএনসি জানায়, মাদক তৈরির কাজে ব্যবহৃত নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক পদার্থের অবৈধ ব্যবহার ও অননুমোদিত সরবরাহ ঠেকাতে তাদের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা দল সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করে। এ সময় অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিকের খুচরা বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়।

তথ্য যাচাই করতে গিয়ে গোয়েন্দারা দেখতে পান, ‘ই-কেম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রির বিজ্ঞাপন দিচ্ছে এবং অর্ডার গ্রহণ করছে। তদন্তে মাদক তৈরিতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে এমন কয়েকটি নিয়ন্ত্রিত প্রিকারসর কেমিক্যালও সাধারণ অনলাইন ক্রয়-বিক্রয় পদ্ধতিতে সরবরাহের জন্য তালিকাভুক্ত থাকার তথ্য পাওয়া যায়।

এরপর তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবে ডিএনসির পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ৫০০ মিলিলিটার এসিটিক এ্যানহাইড্রাইড অর্ডার দেওয়া হয়। এসিটিক এ্যানহাইড্রাইড মরফিন থেকে হেরোইন উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হতে পারে।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখে ‘ই-কেম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ছবি: ডিএনসি

ডিএনসির দাবি, অর্ডার গ্রহণের সময় ক্রেতার কাছে নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক কেনার প্রয়োজনীয় অনুমোদন, লাইসেন্স কিংবা ব্যবহারের উদ্দেশ্যসংক্রান্ত কোনো নথি চাওয়া হয়নি।

পরে গত ২৪ আগস্ট গুলশান থানাধীন নিকেতন এলাকায় পণ্যটি পৌঁছালে গোয়েন্দা দল অভিযান চালিয়ে পার্সেল থেকে ৫০০ মিলিলিটার এসিটিক এ্যানহাইড্রাইড ও এক লিটার এসিটোন জব্দ করে।

ডেলিভারিম্যানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় কুড়িল প্রগতি সরণী এলাকায় থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে ই-কেমের আইটি ম্যানেজার মো. আব্দুল মোমিন পাটোয়ারীকে আটক করা হয়।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখে ‘ই-কেম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ছবি: ডিএনসি

ডিএনসি জানায়, অভিযানে প্রতিষ্ঠানটি থেকে সর্বমোট ছয় লিটার বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া নিয়ন্ত্রিত প্রিকারসর কেমিক্যাল বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু কাগজপত্রও জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে ডিএনসি।

প্রিকারসর কেমিক্যাল বলতে এমন রাসায়নিক পদার্থকে বোঝায়, যার বৈধ শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যবহার রয়েছে; তবে একই সঙ্গে এগুলো অবৈধ মাদক উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহার করা যেতে পারে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ২-এর উপধারা (১৯)-এ এ ধরনের রাসায়নিকের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

ডিএনসি জানায়, এসিটিক এ্যানহাইড্রাইড হেরোইন এবং পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট কোকেন তৈরির প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হতে পারে। এ ছাড়া এসিটোন, ইথাইল ইথার, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, মিথাইল ইথাইল কিটোন ও টলুইনের মতো রাসায়নিকও অবৈধ মাদক উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ডিএনসি বলছে, বৈধ শিল্পকারখানা ও গবেষণাগারে ব্যবহৃত এসব রাসায়নিক যাতে অবৈধ মাদক তৈরির কাজে চলে না যায়, সে জন্য সরবরাহের উৎস, ক্রেতা, পরিমাণ ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বর্তমানে জব্দকৃত রাসায়নিক, উদ্ধার করা নথিপত্র ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব রাসায়নিকের উৎস, সরবরাহ ব্যবস্থা, ক্রেতা ও সম্ভাব্য ব্যবহার শনাক্তে তদন্ত চলছে।

ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুধু তৈরি মাদক উদ্ধার বা কারবারিদের গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মাদক তৈরির কাঁচামাল কোথা থেকে আসে, কীভাবে সংগ্রহ করা হয় এবং বৈধ বাজারের কোন পথে তা অবৈধ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে—সেসব উৎস ও সরবরাহব্যবস্থা শনাক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণে প্রযুক্তিনির্ভর গোয়েন্দা তৎপরতা ও সাইবার মনিটরিং জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।