হোম > জাতীয়

‘দৌড় দে’ বলে পুলিশ তাইমকে গুলি করে: ট্রাইব্যুনালে আহত রাহাত

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের কথায় দৌড় দেওয়া ইমাম হাসান তাইম পেছন থেকে একজন পুলিশ সদস্যের করা গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন ওই ঘটনায় আহত রাহাত হোসাইন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২-এ আজ রোববার তিনি জবানবন্দি দেন।

রাহাতের জবানবন্দির মধ্য দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান তাইম হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হলো। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের পর মামলার প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি শুরু হয়।

রাহাত হোসাইন জবানবন্দিতে বলেন, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই দুপুরে কারফিউ শিথিল হলে তিনি তাইম, শাহরিয়ারসহ কাজলা পদচারী-সেতুর নিচে আন্দোলনে অংশ নিতে অবস্থান নেন। তখন ফ্লাইওভারের ওপর থেকে এপিসিসহ শত শত পুলিশ এবং যাত্রাবাড়ী থানার দিক থেকে শত শত পুলিশ বৃষ্টির মতো গুলি করতে করতে শনির আখড়ার দিকে যাচ্ছিল। এতে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার কেউ কেউ হাতে, বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি, তাইম ও শাহরিয়ার পদচারী-সেতুর পাশে লিটনের চায়ের দোকানে আশ্রয় নেন।

কিছুক্ষণ পর ২৫-৩০ জন পুলিশ ওই চায়ের দোকানের সামনে আসে। কিছু পুলিশ সদস্য উচ্চস্বরে বলছিলেন—‘সবাইকে ক্রসফায়ার করে দে’। চায়ের দোকানের শাটার খুলে পুলিশ তাঁদের টেনেহিঁচড়ে বের করে হাতের অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক পেটায়।

রাহাত বলেন, হঠাৎ একজন পুলিশ সদস্য গালিগালাজ করে তাঁদের দৌড় দিতে বলেন। তাইম দৌড় দিলে সাদাপোশাকে থাকা ওই পুলিশ সদস্য পেছন থেকে তাইমকে লক্ষ্য করে দুটি গুলি করেন। প্রথম গুলিটি তাইমের বাঁ পায়ে, দ্বিতীয়টি বাঁ কোমরের একটু নিচে লাগে। তাইম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তিনি দৌড়ে গিয়ে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তখন সাদাপোশাকের একজন পুলিশ তাঁদের দিকে বারবার গুলি করেন। একটি গুলি তাঁর ডান পায়ের পাতায় বিদ্ধ হয়। কিছুক্ষণ পর তিনি পেছনের দিকে দৌড় দেন। পুলিশ তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করতে থাকে। তিনি কিছু দূর গিয়ে রাস্তায় পড়ে যান। তিনি চিৎকারে দুজন সহযোদ্ধা (আন্দোলনকারী) তাঁকে তুলে পাশের অনাবিল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পৌঁছে দেন।

২৫ জুলাই তাইমের বড় ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে জানতে পারেন, তাইম মারা গেছেন। পরে জেনেছেন, গুলি করেছিলেন যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাকির হোসেন।

এর আগে চিফ প্রসিকিউটর সূচনা বক্তব্যে বলেন, এই মামলায় যেসব সুনির্দিষ্ট ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়। এগুলো একটি বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের অংশ। আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় মদদে চলমান ভয়ভীতি ও দমন-পীড়নের সংস্কৃতির অংশ। যেখানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে বিরোধী মতকে নির্মূল করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এই মামলার ১১ জন আসামির মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান ও সাবেক এসআই শাহাদাত গ্রেপ্তার রয়েছেন। বাকি নয়জন পলাতক। তাঁরা হলেন—ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন এসি নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন, পরিদর্শক (অপারেশনস) ওহিদুল হক মামুন ও এসআই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ উজ জামান।

গণভোটের অধ্যাদেশ উঠছে না সংসদে

দুর্বল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে মজুতদারিতে সংকট

সরকার চাইলে যেকোনো অধ্যাদেশ সংশোধন করতে পারে: অ্যাটর্নি জেনারেল

মোংলায় তেল মজুতে গরমিল তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে আজ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অফিসে অবস্থান ও জ্বালানি সাশ্রয়ে ১১ নির্দেশনা

২ সচিব প্রত্যাহার, দুই মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব

সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদে আলোচনা ৩১ মার্চ

জাপানি শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে ভাষা শিক্ষা, শিগগিরই সমঝোতা

৪ দিনের মাথায় এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী রশীদ মিয়ার নিয়োগ বাতিল