বাংলা একাডেমির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষক আবুল কাসেম ফজলুল হক ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ রোববার দুপুরে মিরপুরের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর কন্যা ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য শুচিতা শরমিন এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে অসুস্থ হয়ে পড়লে মিরপুরে একটি হাসপাতালে তাঁকে নেওয়া হয়। বেলা আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে তিনি মারা যান।
আবুল কাসেম ফজলুল হকের জন্ম ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। তিনি বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৯ সালে ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৬১ সালে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিজ্ঞানে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে তিনি স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাস করেন।
তাঁর দুই সন্তান শুচিতা শরমিন ও ফয়সল আরেফিন দীপন। শুচিতা শরমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য। ছেলে ফয়সল আরেফিন দীপন জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ছিলেন। ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর দীপনকে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে।
প্রখ্যাত এই প্রাবন্ধিক, লেখক, গবেষক, ঐতিহাসিক, অনুবাদক, সমাজবিশ্লেষক, সাহিত্য সমালোচক ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ রাষ্ট্রভাষা বাংলা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চিন্তা ও তত্ত্বের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর রচনা স্বদেশ ভাবনা ও রাজনৈতিক চিন্তায় ঋদ্ধ। তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়।
আবুল কাসেম ফজলুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দীর্ঘ চার দশক শিক্ষকতা করেন। তিনি সমাজ সংস্কারের ধারায় চার্বাক মতাবলম্বী লোকায়ত নামের একটি পত্রিকা ১৯৮২ সাল থেকে সম্পাদনা করেছেন। ২১টির বেশি বইয়ের প্রণেতা ফজলুল হক নজরুল রচনাবলির সম্পাদনা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।