পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেছেন, জ্বালানি সমস্যা বর্তমান সরকারের সৃষ্ট কোনো সমস্যা নয়, পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমদানিনির্ভর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতির কারণেই আজকের সংকট।
আজ শুক্রবার কুমিল্লা টাউন হলে ঢাকা-কুমিল্লা বিকল্প মহাসড়ক ও কোটবাড়ি এ এইচ কে স্যাটেলাইট সিটির ধারণাপত্র উপস্থাপন বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার গ্যাস এবং বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের গ্যাস উত্তোলন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যাপকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির মজুত তৈরি করা এবং আমাদের নিজস্ব যে গ্যাস সংযোগ আছে, যেমন ভোলাতে ইতিমধ্যে আবিষ্কৃত গ্যাস কীভাবে ম্যানুয়ালি আনা যায়-এসব উৎপাদনে মধ্যম মেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে এর সুফল পাওয়া যাবে।’
জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘একমাত্র যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে আমাদের ৪০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়েছে। এতে একদিকে আর্থিক চাপ তৈরি করেছে, অন্যদিকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।’
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানে হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এবং এখনো যাঁরা শরীরে ক্ষত নিয়ে জীবনযাপন করছেন, তাঁদের প্রতি আমাদের যে ঋণ, সেটি হচ্ছে গণতান্ত্রিকভাবে এবং সমস্ত উন্নয়নকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা।’
সেমিনারে মূল ধারণাপত্র পাঠ করেন কুমিল্লা ৬ (সদর) আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর চাপ কমাতে বিকল্প আরেকটি মহাসড়ক অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রস্তাবিত মহাসড়কটি নির্মাণ হলে অবহেলিত কুমিল্লার উত্তরাঞ্চলেও কৃষি ও শিল্পবিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবুর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আমিরুজ্জামান আমির প্রমুখ।