দীর্ঘ ২০ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিয়োগ পেলেন ২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগ বঞ্চিত থাকা আরও ৯৬ জন প্রার্থী। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) বিভিন্ন ক্যাডারে তাঁদের নিয়োগ দিয়ে আজ বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) সুপারিশের ভিত্তিতে এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নবনিযুক্ত এই কর্মকর্তাদের আগামী ১৮ মের মধ্যে তাঁদের ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, যদি নির্ধারিত তারিখে কেউ যোগদান না করেন, তবে তিনি চাকরিতে সম্মত নন বলে ধরে নেওয়া হবে এবং তাঁর নিয়োগপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী দপ্তর থেকে ভিন্ন কোনো নির্দেশনা না পেলে ১৮ মে-ই হবে তাঁদের যোগদানের শেষ সময়।
নিয়োগপ্রাপ্তদের জ্যেষ্ঠতা অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে তাঁদের ব্যাচের প্রথম নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের তারিখ থেকে ‘ভূতাপেক্ষভাবে’ (Retrospective) এই নিয়োগ আদেশ কার্যকর হবে। অর্থাৎ, ধারণাগতভাবে তাঁরা তাঁদের ব্যাচের সহকর্মীদের সঙ্গেই জ্যেষ্ঠতা বজায় রাখবেন। তবে এই ভূতাপেক্ষ নিয়োগের ফলে তাঁরা অতীতের কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা বা বেতন (Arrears) পাবেন না।
২৭তম বিসিএস-এর এই নিয়োগ জটিলতার ইতিহাস অত্যন্ত দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল। বিএনপি সরকারের আমলে ২৭তম বিসিএস-এর প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়, যেখানে ৩ হাজার ৫৬৭ জন উত্তীর্ণ হন।২০০৭ সালের জুনে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনিয়মের অভিযোগে প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল করে।
২০০৮ সালে দ্বিতীয়বার মৌখিক পরীক্ষার আয়োজন করা হয় এবং এর মাধ্যমে ৩ হাজার ২২৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রথম দফায় উত্তীর্ণরা দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু করেন।
২০২৩ সালের নভেম্বরে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ২৭তম বিসিএস-এর দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষাকে অবৈধ ঘোষণা করেন।
২০২৪ ও ২০২৫ সালে যথাক্রমে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় ও পরবর্তী রিভিউ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বঞ্চিত ১ হাজার ১৩৭ জনের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার আইনি পথ চূড়ান্তভাবে উন্মুক্ত হয়।
গত বছরের ডিসেম্বরে বড় একটি অংশ (৬৭৩ জন) নিয়োগ পাওয়ার পর আজ আরও ৯৬ জনের প্রজ্ঞাপন জারি হলো।
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গত বছরের ১১ আগস্ট বঞ্চিত ১ হাজার ১৩৭ জনকে নিয়োগ দিতে হাইকোর্টের রায় দ্রুত কার্যকরের নির্দেশ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছিলেন। আজকের এই প্রজ্ঞাপন সেই ঐতিহাসিক নির্দেশ বাস্তবায়নেরই একটি অংশ। এর ফলে দুই দশক ধরে বয়ে চলা এক দীর্ঘ বঞ্চনা ও আইনি লড়াইয়ের সফল পরিসমাপ্তি ঘটল।