কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাসের (সিএনজি) দাম বৃদ্ধির দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ৩০ জুলাই দিনব্যাপী ও ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সিএনজি পাম্প বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় বিজয়নগরস্থ সংগঠনটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে তাঁরা সিএনজি গ্যাসের কমিশন ৮ টাকা থেকে ১৩.৯৬ টাকায় বৃদ্ধির দাবি জানায়।
এ সময় সংগঠনের সহসভাপতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী জানান, এর আগেও ৬ জুন সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন দাবি ও সমস্যা তুলে ধরা হয়। এরপর সমস্যা সমাধানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিলে এবং মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করলেও তাঁরা সাক্ষাতের সুযোগ পাননি।
আমিরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ, কিন্তু বিক্রির রেট বাড়েনি। ৮ দফা বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের মধ্যে আছি। মুদ্রাস্ফীতি, সরকারিভাবে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, যন্ত্রাংশের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি, সওজের জায়গা ও সংযোগ সড়কের ইজারা ফি বৃদ্ধি, ব্যাংক গ্যারান্টির কমিশন ও সুদ বৃদ্ধি, নতুন নতুন বিভিন্ন লাইসেন্স ফি আরোপ ও বৃদ্ধি এবং সব পণ্যের অব্যাহত ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে যে কমিশন পাচ্ছি তাতে আমাদের লোকসান হচ্ছে।’
সংগঠনের মহাসচিব ফারহান নূর বলেন, ‘আমাদের গ্যাস কেনা মূল্য ৩৫ টাকা, আর এটা সিএনজিতে রূপান্তর করে বিক্রয় ৪৩ টাকা। এখানে কমিশন হচ্ছে মাত্র ৮ টাকা। আর এই ৮ টাকার ৬ টাকাই চলে যাচ্ছে বিদ্যুৎ খাতে। বাকি ২ টাকা থেকে স্টাফ খরচ, জায়গার ভাড়া, ট্যাক্স ও যন্ত্রপাতির খরচসহ বিভিন্ন খরচ শেষে আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ৪ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো ১১ বছর আগে নির্ধারণ করা ৮ টাকা কমিশনের স্থলে ন্যূনতম ১৩.৯৬ টাকা নির্ধারণ করতে হবে; ভবিষ্যতে সিএনজি উৎপাদনে ব্যবহৃত যেকোনো জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি আনুপাতিক ও স্বয়ংক্রিয় পন্থায় কমিশন/মার্জিনের সাথে সমন্বয় করতে হবে; গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণে পুরোনো গ্রাহকদের নতুন করে বর্ধিত জামানত জমা দেওয়ার প্রথা বাতিল করতে হবে; সড়ক ও জনপথের ভূমি/সংযোগ সড়কের ইজারা মাশুলসহ সব সরকারি দপ্তরের লাইসেন্স ফি/নবায়ন ফি যৌক্তিকীকরণ করতে হবে।
দাবিগুলো আদায়ের লক্ষ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে তারা ৩০ জুলাই সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত প্রতীকীভাবে সারা দেশের সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখবে, একই সঙ্গে সরকারের সঙ্গে আলোচনাও চালিয়ে যাবে। এতে ফলপ্রসূ সমাধান না হলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশের সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দিবে সংগঠনটি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্ত।