সংসদে কোনো সদস্যের প্রতি ‘অঙ্গুলিনির্দেশ’ করার অভিযোগ এক্সপাঞ্জ করার দাবির বিষয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, অঙ্গুলিনির্দেশ এক্সপাঞ্জ করা যায় না; অসংসদীয় বক্তব্য থাকলে তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। আজ বুধবার জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনার একপর্যায়ে নেত্রকোনা-৩ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) রফিকুল ইসলাম হিলালীর দাবির জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, ‘গত রোববার বিরোধী দলের একজন সিনিয়র সদস্য মাদক, মদ ও সিগারেট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেছিলেন, এই সংসদে যাঁরা রয়েছেন, তাঁর পেছনের সারিতে তাঁরা মাদক গ্রহণ করেন না। আমাদের দিকে অঙ্গুলিনির্দেশ করেছিলেন যে, মাদক গ্রহণ উনারা করেন না! আমরা করি?’
বিএনপির এই এমপি বলেন, ‘আমরা কখনো সরকারি দলের সদস্য হোক, বিরোধী দলের সদস্য হোক, সম্মানহানি হয়, এ ধরনের কথা বলি না, বলবও না। আমি রোববারের সেই আর্কাইভ থেকে আপনার কাছে অনুরোধ করছি, আমাদের প্রতি যে অঙ্গুলিনির্দেশ করেছিলেন, সেটা এক্সপাঞ্জ করা হোক।’
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি পরীক্ষা করে দেখব যে বিরোধী দল থেকে কোনো অসংসদীয় কথা বলা হয়েছে কি না, সেটা আমরা পরীক্ষা করে দেখব। কত তারিখে বলেছেন, সেটাও সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করবেন।’
স্পিকার আরও বলেন, ‘আরেকটা আপনি বলেছেন যে অঙ্গুলিনির্দেশ করেছে, ওটাও এক্সপাঞ্জ করে দিতে। অঙ্গুলিনির্দেশ তো এক্সপাঞ্জ করা যাবে না। কথাবার্তা হলে সেটাকে এক্সপাঞ্জ করা যাবে।’
এর আগে বাজেট আলোচনায় এমপি রফিকুল ইসলাম হিলালী জানান, মাদক মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দ্রুত জামিন পেয়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
এমপি হিলালী বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমার নির্বাচনী এলাকায় এক মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করার পর আদালতে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ ভাইয়েরা থানায় আসার আগেই সেই মাদকসেবীকে থানার সামনে চায়ের দোকানে চা খেতে দেখা গেছে।’
মাদক মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আসামিরা যাতে জামিন না পান, সে বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের ‘সুস্পষ্ট ও কড়া নির্দেশনা’ চান হিলালী।