হোম > জাতীয়

আজকের এই সংসদ বাংলাদেশের জনগণের: তারেক রহমান

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আজ থেকে আপনারা দলের নন। আপনারা সংসদের অভিভাবক। আজকের এই সংসদ বাংলাদেশের জনগণের সংসদ। দেশ এবং জনগণের স্বার্থে সংসদকে অর্থবহ করতে চাই।

দেশে আজ থেকে আবারও কাঙ্ক্ষিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমৃদ্ধ নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমার রাজনীতি দেশ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করার রাজনীতি। এই লক্ষ্য অর্জনে আমি গণতান্ত্রিক জনগণের সমর্থন এবং সহযোগিতা চাই। এই মহান জাতীয় সংসদে সকল দলের নির্বাচিত প্রতিজন সংসদ সদস্যের সমর্থন এবং সহযোগিতা চাই।

এর আগে আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের সভাপতির নাম প্রস্তাবকালে বক্তব্যের সময় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখেন। পরে তারেক রহমান সংসদের প্রথম বৈঠকের সভাপতি হিসেবে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন।

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ করে সংসদনেতা তারেক রহমান বলেন, আমাদের দল কিংবা মত কিংবা কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু তাঁবেদারমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি স্বাধীন সার্বভৌম নিরাপদ স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। বিরোধ নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদকে জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু না করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার অকার্যকর করে ফেলেছিল। আমরা এই মহান জাতীয় সংসদকে সকল যুক্তি-তর্ক আর জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই।

তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না, আর হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে অবশেষে আজ থেকে পুনরায় যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে জনপ্রতিনিধিত্বশীল জাতীয় সংসদ। আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করতে পেরেছি।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ এ পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যাঁরা শহীদ হয়েছেন সংসদ শুরুর এই যাত্রালগ্নে তাঁদেরকে স্মরণ করছি। এই আন্দোলন আহত মানুষকে তাঁদের স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন হারাতে হয়েছে— যেসব মানুষগুলো নির্যাতন, নিপীড়ন, রাজনৈতিক হয়রানি কিংবা মিথ্যা মামলা শিকার হয়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন তাঁদের স্মরণ করছি।

বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, সব শ্রেণিপেশার মানুষ, যাদেরকে গুম খুন হত্যা নির্যাতন নিপীড়ন মিথ্যা হামলা-মামলা কিংবা জীবন্ত মানুষের কবরস্থান তুল্য বর্বর বন্দিশালা আয়না ঘর কোনো কিছুতে দিয়েই যাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে রুখে দেওয়া যায়নি। যাদের সাহসী ভূমিকায় দেশে পুনরায় গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। জাতীয় সংসদের এই যাত্রালগ্নে দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতান্ত্রিককামী বীর ছাত্র-জনতাকে জানাই অভিনন্দন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। সেই গণতন্ত্রকে প্রহসনের রূপ দিয়ে জাতীয় সংসদকে হাস্যরসের খোরাকে পরিণত করা হয়েছিল। দেশের তাঁবেদারি শাসন শোষণ কায়েম করা হয়েছিল। দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করেছেন। জীবনে কখনোই স্বৈরাচার কিংবা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি। দেশে আজ থেকে আবারও সেই কাঙ্ক্ষিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলো। আলহামদুলিল্লাহ। সংসদীয় রাজনীতি প্রতিষ্ঠাতা খালেদা জিয়া দেশ এবং জনগণের সাফল্যে এই শুভ মুহূর্তটি দেখে যেতে পারেননি। আজ তাই এই জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে আমরা দেশ এবং জনগণের স্বার্থে আপসহীন নেতৃত্ব ব্যক্তিত্ব স্মরণীয় বরণীয় অনুকরণীয় রাজনীতিবিদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা উল্লেখ করে তার উক্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি (জিয়াউর রহমান) বলেছিলেন জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয় তাহলে আমি সেই দলেরই আছি। অর্থাৎ ব্যক্তি কিংবা দলের স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থই সবচাইতে বড়। এটাই বিএনপির রাজনীতি।

তিনি বলেন, আমি প্রথমবারের মতো বিএনপি থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। জাতীয় সংসদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছি। জাতীয় জাতীয় সংসদে দলের প্রতিনিধিত্ব করলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি এই জাতীয় সংসদ দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমার রাজনীতি দেশ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করার রাজনীতি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রাজনীতি। প্রতিটি পরিবার স্বনির্ভর করাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমেই বিএনপি একটি স্বনির্ভর সমৃদ্ধ নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে আমি গণতান্ত্রিক জনগণের সমর্থন এবং সহযোগিতা চাইছি। এই মহান জাতীয় সংসদে সকল দলের নির্বাচিত প্রতিজন সংসদ সদস্যের সমর্থন এবং সহযোগিতা আশা করছি।

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমাদের দল কিংবা মত কিংবা কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু তাঁবেদারমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি স্বাধীন সার্বভৌম নিরাপদ স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। বিরোধ নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদকে জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু না করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার অকার্যকর করে ফেলেছিল। আমরা এই মহান জাতীয় সংসদকে সকল যুক্তি-তর্ক আর জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই।

নতুন সরকারের যাত্রার শুরুতে স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত না থাকার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকারের জনবিরোধী এবং গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে যে জনরোষ তৈরি হয়েছে বা জনরোষ তৈরি হয়েছিল তাতে এই মহান সংসদের সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের কেউ কারাগারে, কেউ নিখোঁজ কিংবা কেউ পলাতক। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী এবং তাঁবেদারি শাসন শোষণের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে আজ আমাদের এক বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।

সংসদদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করার জন্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংসদীয় রীতিনীতির ইতিহাসে এই ধরনের পরিপ্রেক্ষিত নজিরবিহীন নয়, ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান ওই সংসদের সদস্য মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন।

চব্বিশে সম্মিলিত আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে: রাষ্ট্রপতি

জাতীয় সংসদ হবে সব রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র: স্পিকার

সংসদে দর্শক গ্যালারিতে অধ্যাপক ইউনূস, জুবাইদা ও জাইমা রহমান

রাষ্ট্রপতির ভাষণের শুরুতেই বিরোধীদের হট্টগোল, ওয়াকআউট

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে চিফ হুইপের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা

নতুন মন্ত্রী হলেন আহমেদ আযম খান

ঈদে নতুন দুই নৌরুটে লঞ্চ-স্টিমার সার্ভিস শুরু ১৭ মার্চ থেকে

ফ্যাসিস্ট ও ফ্যাসিবাদের দোসর মুক্ত জাতীয় সংসদ চাই: নাহিদ ইসলাম

পদ্মা সেতুর প্রভাবে লঞ্চযাত্রী কমলেও ঈদে কেবিনের চাহিদা তুঙ্গে

খালেদা জিয়াকে নিয়ে শোকপ্রস্তাবে যা বললেন স্পিকার