রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে ই-রিকশা বা ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিয়ে কথা বলেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। প্রতিমন্ত্রী জানান, মূল সড়কগুলোতে এ ধরনের যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না।
মীর শাহে আলম আরও বলেন, ‘মূল সড়কে ই-রিকশা আমরা চলতে দেব না। আটটি জোন করে তাদের অভ্যন্তরীণ রোডগুলোতে চলতে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এটি তিনটি ভাগে ভাগ থাকবে। আমরা ঢাকা শহরে যে ই-রিকশাগুলোকে লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন দেব তার যাত্রী সংখ্যা হবে দুই এবং চার। ছয়জনের কোনো ভেহিক্যালকে, মানে ই-রিকশাকে আমরা ঢাকা সিটি করপোরেশনের রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনব না। ওটা আমরা নীতিমালাতে বলেছি। দুই, চার, ছয়ের রেজিস্ট্রেশন পাবে গ্রামীণ এলাকায়, জেলা শহরের গ্রামীণ রাস্তাতে চলার জন্য তারা পাবে। সেটা অবশ্যই বুয়েট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটির সার্টিফায়েড ডিজাইন অনুযায়ী যারা তৈরি করবে, তারাই এই রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসবে।’
নীতিমালা কবে নাগাদ প্রয়োগ হবে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নীতিমালা একদম শেষ পর্যায়ে। ভেটিংয়ের জন্য এখন আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। ভেটিং হয়ে আসার পরেই আমরা এক সপ্তাহের মধ্যেই বা পরের সপ্তাহেই, যত দ্রুত সম্ভব এটা দিয়ে দেব। আইনের আলোকে এই নীতিমালাটা দিলেই ই-রিকশাগুলো, ইলেকট্রিক রিকশাগুলো একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে।’
আজ সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ান হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহদা বিন ওসমান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে মালয়েশিয়ার সড়কে যে রাবার কার্পেটিং হয় সেই প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মীর শাহে আলম আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে পলিমার মডিফাই বিটুমিন মানে রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারে কারিগরি সহায়তা দিতে মালয়েশিয়া রাজি হয়েছে। এটা সাধারণত রোড কার্পেটিংয়ের কাজে ব্যবহার হয়। আপনারা জানেন যে মালয়েশিয়ার রাস্তাগুলো—ওখানে কিন্তু প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, কিন্তু তাদের কার্পেটিংয়ের রাস্তা সহজে নষ্ট হয় না। তারা কার্পেটিংয়ের সঙ্গে রাবারটা ইউজ করে।’
বাংলাদেশে ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল খাতে বিনিয়োগের ব্যাপারে প্রস্তুতি চলছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।