দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে এবার দেখা গেছে এক নতুন উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম কমিশনের শীর্ষ দুই পদে নিয়োগের জন্য আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছ থেকে সরাসরি জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) আহ্বান করেছে সরকার। এত দিন বাছাই কমিটি বিভিন্ন সূত্রে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম সংগ্রহ করে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ পাঠাত। এবার সেই প্রচলিত প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে উন্মুক্তভাবে আবেদন গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৭ অনুযায়ী গঠিত বাছাই কমিটি চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য আগ্রহী ব্যক্তিদের জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করেছে। ১৩ জুলাই বিকেল ৪টা পর্যন্ত আবেদন জমা দেওয়া যাবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুদকের ২২ বছরের ইতিহাসে এমন উদ্যোগ নজিরবিহীন। এর আগে প্রতিবারই সার্চ বা বাছাই কমিটি বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও নিজস্ব বিবেচনায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করত। আগ্রহী ব্যক্তিদের উদ্দেশে প্রকাশ্যে আবেদন আহ্বানের নজির ছিল না। ফলে এবার যোগ্য ও আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র আরও উন্মুক্ত হলো।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবেদনকারীদের দুদক আইন, ২০০৪-এর ধারা ৮(১) অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে ধারা ৮(২)-এ বর্ণিত অযোগ্যতার শর্তে পড়েন—এমন কেউ কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য হবেন না।
জীবনবৃত্তান্তে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, যোগাযোগের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সনদপত্র সংযুক্ত করতে হবে। খামের ওপর ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান/কমিশনার পদের জন্য জীবনবৃত্তান্ত’ উল্লেখ করতে হবে। আবেদন বাংলাদেশ সচিবালয়ের কেন্দ্রীয় পত্রগ্রহণ কেন্দ্র অথবা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্ধারিত দপ্তরে জমা দেওয়া যাবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, যাঁরা ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন, তাঁদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন হবে না।
প্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, উন্মুক্তভাবে আবেদন আহ্বানের ফলে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে এবং যোগ্য ব্যক্তিদের একটি বড় পরিসর থেকে বাছাই করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে বাছাই কমিটির মূল্যায়নপ্রক্রিয়া এবং চূড়ান্ত নিয়োগে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা কতটা নিশ্চিত করা হয়, তার ওপর।