হোম > জাতীয়

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল পাসের প্রক্রিয়া বর্জন করবে বিরোধী দল

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

বৈঠক বর্জন শেষে জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় মুখপাত্র মো. নাজিবুর রহমান। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংস্থা ও সুধীজনদের মতামত উপেক্ষা করে জাতীয় মানবাধিকার বিল পাসে সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘একতরফা’ দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল। বিলটি পাসের প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়েই বিরোধী দল থাকবে না বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় মুখপাত্র মো. নাজিবুর রহমান।

আজ রোববার জাতীয় সংসদে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মানবাধিকার বিল-সংক্রান্ত আলোচনা বর্জন করে বিরোধী দল। যদিও একই বৈঠকে সম্পত্তি হস্তান্তর বিলের আলোচনায় অংশ নেয় তারা।

বৈঠক বর্জন শেষে জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাজিবুর রহমান।

নাজিবুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মানবাধিকার-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আইনটি আরও শক্তিশালী করার কথা থাকলেও বর্তমান যে বিল সংসদে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

নাজিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, আগের আইনটি শক্তিশালী করার পরিবর্তে প্রস্তাবিত বিলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও দুর্বল করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এমনকি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির স্বাধীনভাবে মতামত দেওয়ার সুযোগও সীমিত করা হয়েছে।

২০০৯ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন করা হয়। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন সংশোধন করে নতুনভাবে অধ্যাদেশ করা হয়েছিল। সেটি চলতি ত্রয়োদশ সংসদে রহিত করে ২০০৯ সালের আইন বহাল করা হয়। ২০০৯ সালের আইন রহিত করে নতুন করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০২৬ গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।

দুদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার বাধ্যবাধকতাকে হাত-পা বেঁধে দেওয়ার মতো বলে মনে করে বিরোধী দল। এ বিষয়ে নাজিবুর রহমান বলেন, বিলটি সংসদে তোলার আগে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির হাত পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, মাত্র দুই দিনের মধ্যে বিলের প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে কমিটির সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সংসদীয় কমিটিটাকে রাবার স্ট্যাম্পের মতো করে ফেলা হয়েছে। যার কারণে আমরা এখানে থাকতে পারছি না, আমরা এখান থেকে এই বৈঠকটাকে বর্জন করতে বাধ্য হয়েছি।’

সংশোধনীকে বিতর্কিত ও কালো আইন উল্লেখ করে নাজিবুর রহমান বলেন, ‘এখানে মানবাধিকার রক্ষার কথা বলা হলেও জনগণের যে মানবাধিকার আছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি এটা লঙ্ঘন করে, জনগণের প্রোটেকশনের কোনো জায়গা এখানে রাখা হয়নি। যার কারণে এই কালো আইন, এই আইনের কোনো প্রক্রিয়া, এই আইন পাসের কোনো প্রক্রিয়ার সাথে আমরা যুক্ত থাকতে চাই না। এর কোনো দায়ভার আমরা নিতে চাই না।’