অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে যশোর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী মোছা. তাহেরা সোবহার নামে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে তাঁদের তিন ছেলের নামে সম্পদবিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে।
আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দুটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।
দুদকের অভিযোগ, শেখ আফিল উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী মিলে ৬২ কোটি ৩১ লাখ ১৫ হাজার ৭৩০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। এর মধ্যে শেখ আফিল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ৪৬ কোটি ২৬ লাখ ৪ হাজার ৪২২ টাকা ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১৬ কোটি ৫ লাখ ১১ হাজার ৩০৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শেখ আফিল উদ্দিনের নামে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮৮ টাকার স্থাবর ও ৪৩ কোটি ৯৫ লাখ ৯ হাজার ২৮১ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪৫ কোটি ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ৯৬৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে তাঁর ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৪৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৩ টাকা। ব্যয়সহ মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৩ কোটি ৮৬ লাখ ৬৬ হাজার ২৭২ টাকা।
অন্যদিকে, তাঁর বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ৭ কোটি ৬০ লাখ ৬১ হাজার ৮৫০ টাকা। এ হিসাবে ৪৬ কোটি ২৬ লাখ ৪ হাজার ৪২২ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে দুদকের দাবি। এই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
স্ত্রী মোছা. তাহেরা সোবহার নামে ১৮ কোটি ৫৫ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৩ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে তাঁর ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭ লাখ ৭৫ হাজার ২৩২ টাকা। ব্যয়সহ মোট সম্পদের পরিমাণ ১৯ কোটি ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৯৫ টাকা। বিপরীতে বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ৩ কোটি ১৮ লাখ ৩০ হাজার ৭৮৭ টাকা। ফলে ১৬ কোটি ৫ লাখ ১১ হাজার ৩০৮ টাকার সম্পদ আয়বহির্ভূত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধেও একই আইনের ২৭(১) ধারায় মামলা হয়েছে।
শেখ আফিল উদ্দিন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের বড় ভাই। তাঁরা দুজনই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রয়াত শেখ আকিজ উদ্দিনের পুত্র।
আফিল উদ্দিনের তিন ছেলেকে নোটিশ
দুদক জানিয়েছে, শেখ আফিল উদ্দিনের তিন ছেলে শেখ কুতুব উদ্দিন, শেখ তামিম উদ্দিন ও শেখ আফনান উদ্দিনের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
শেখ কুতুব উদ্দিনের নামে ৩ কোটি ৫৫ লাখ ১৭ হাজার ২০৯ টাকার সম্পদের বিপরীতে বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার ৪৭৩ টাকা। অর্থাৎ ২ কোটি ১৬ লাখ ১২ হাজার ৭৩৬ টাকার সম্পদ আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।
শেখ তামিম উদ্দিনের নামে ব্যয়সহ মোট ৬ কোটি ৯১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫৩ টাকার সম্পদের বিপরীতে বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ৪ কোটি ৯৫ লাখ ১৪ হাজার ৪৭৫ টাকা। তাঁর ক্ষেত্রে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৫৪ হাজার ২৭৮ টাকার সম্পদ আয়বহির্ভূত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আফনান উদ্দিনের ক্ষেত্রে স্থাবর সম্পদের তথ্য না মিললেও ১ কোটি ৮৮ লাখ ১ হাজার ৩৪৩ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যয়সহ মোট সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ১ হাজার ৩৪৩ টাকা। বিপরীতে বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ১ কোটি ২৯ লাখ ২৭ হাজার ১০৭ টাকা। অর্থাৎ ৭০ লাখ ৭৪ হাজার ২৩৬ টাকার সম্পদ আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।
এ তিনজনের বিরুদ্ধেও দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় সম্পদবিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে।