বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম বলেছেন, দেশের বিদ্যমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার একটি মানবিক, জনকল্যাণমুখী ও সাশ্রয়ী বাজেট প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এমবিএ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমএবি) আয়োজিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটবিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, অতীতে এমন আইন করা হয়েছিল, যার ফলে কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হলে আমানতকারীরা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পেতেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কেন এ ধরনের আইন করা হয়েছিল এবং কেন জনগণকে তা মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছিল? তাঁর মতে, ব্যাংকিং খাতকে কার্যত ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, এ খাতের টেকসই সংস্কারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর আলোচনা প্রয়োজন।
অর্থ পাচার ও মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে চিফ হুইপ দাবি করেন, দেশ থেকে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এ কারণে ডলারের দাম ৮২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকায় পৌঁছায় এবং একদিনে ৭ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ সাধারণ মানুষের ওপর পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ টেনে চিফ হুইপ বাকশাল শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করেন। পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে বলেন, তিনি দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের প্রতিও তিনি শ্রদ্ধা জানান।
চিফ হুইপ বলেন, বাজেট শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, এটি মানুষের জীবনমানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব এবং মৌলিক চাহিদা পূরণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরকার সেই লক্ষ্যেই বাজেট প্রণয়ন করছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ সময় চিফ হুইপ সমাজের অবহেলিত মানুষের কল্যাণ এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
এমএবির সভাপতি সৈয়দ আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং ড. মো. শামসুজ্জামান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. এ. কে. এম. ওয়ারেছুল করিম। সভায় সিনিয়র সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, জুবায়ের আহমেদ বাবুসহ অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য দেন।