হোম > জাতীয়

কেন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকার, ব্যাখ্যা দিল প্রেস উইং

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

সংস্কার ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রকাশ্য সমর্থন নিয়ে রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কিছু মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে যে, একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নিরপেক্ষতার সঙ্গে এই অবস্থান অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক রীতির উদাহরণ দিয়ে এই পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সমালোচনা কেবল অমূলকই নয়, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্যকে ভুলভাবে বোঝার ফল।

সংস্কার নিয়ে গণভোটে প্রধান উপদেষ্টার সমর্থন এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারের নৈতিক ও আইনি ভিত্তি এবং ঐতিহাসিক নজির তুলে ধরে বলা হয়েছে:

১. অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ ম্যান্ডেট: সংস্কারই মূল ভিত্তি

সাধারণত একটি অন্তর্বর্তী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার কেবল রুটিন কাজ ও নির্বাচন পরিচালনার জন্য গঠিত হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী এই সরকার গঠিত হয়েছে রাষ্ট্রের গভীর শাসনতান্ত্রিক সংকট নিরসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সুনির্দিষ্ট ম্যান্ডেট নিয়ে।

বিগত ১৮ মাসে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শের পর যে সংস্কার প্যাকেজ তৈরি হয়েছে, তা কোনো দলীয় অ্যাজেন্ডা নয়, বরং জাতীয় আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে প্রফেসর ইউনূস এই সংস্কারপ্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফলে যে সংস্কারের ওপর সরকারের বৈধতা দাঁড়িয়ে আছে, সেই সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া কেবল যৌক্তিকই নয়, বরং নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব। এই সংকটময় সময়ে নীরব থাকা নিরপেক্ষতা নয়, বরং দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া হিসেবে গণ্য হবে।

২. আন্তর্জাতিক নজির: সরকারপ্রধানদের সক্রিয় ভূমিকা

বিশ্বের উন্নত গণতন্ত্রগুলোতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণভোটের সময় রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানেরা প্রায়শই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। এটি গণতান্ত্রিক রীতির লঙ্ঘন নয়, বরং রাজনৈতিক স্বচ্ছতার বহিঃপ্রকাশ। এর কিছু ঐতিহাসিক ও আধুনিক উদাহরণ হলো:

যুক্তরাজ্য (২০১৬) : তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ব্রেক্সিট গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষে অত্যন্ত সক্রিয় প্রচার চালান। তিনি একে জাতীয় স্বার্থে অপরিহার্য বলে জনগণের সামনে তুলে ধরেন।

স্কটল্যান্ড (২০১৪) : স্কটিশ ফার্স্ট মিনিস্টার অ্যালেক্স স্যালমন্ড স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষে ‘ইয়েস স্কটল্যান্ড’ প্রচারের প্রধান মুখ ছিলেন।

ফ্রান্স (১৯৬২) : প্রেসিডেন্ট শার্ল দ্য গল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি সরাসরি জনগণের ভোটে করার প্রস্তাব দেন এবং সংসদীয় বিরোধিতা সত্ত্বেও গণভোটে সরাসরি জনগণের সমর্থন চান।

তুরস্ক ও কিরগিজস্তান: ২০১৭ সালে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এবং ২০১৬ সালে কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট আলমাজবেক আতামবায়েভ নিজ নিজ দেশের সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে দেশব্যাপী জনমত গঠন করেন।

এসব ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সরকারপ্রধানের সমর্থনকে অগণতান্ত্রিক বলা হয়নি, বরং ভোটারদের সঠিক তথ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা হয়েছে।

৩. ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে

ড. ইউনূসের এই সমর্থনের পেছনে একটি বড় শক্তির জায়গা হলো তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার অনুপস্থিতি। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা বা প্রধান উপদেষ্টা—কারও কোনো নির্বাচনী স্বার্থ নেই। তাঁরা ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে বা কোনো নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দিতে এই সংস্কার করছেন না। সংস্কার অনুমোদিত বা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ও পরিচালনা করবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার। ফলে এখানে ক্ষমতার অপব্যবহার বা প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি নেই বললেই চলে।

৪. সচেতন জনমত গঠনে সরকারি প্রচার

জেলাপর্যায়ে প্রশাসনের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে প্রচারণা নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তার মূল উদ্দেশ্য হলো বিভ্রান্তি দূর করা। একটি যুগান্তকারী সংস্কারপ্রক্রিয়ায় ভুল তথ্য বা গুজব ছড়ালে জাতীয় স্বার্থ বিঘ্নিত হতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়বস্তু স্পষ্ট করা মানে ভোটারকে বাধ্য করা নয়, বরং তাঁকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলা। চূড়ান্ত রায় দেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা জনগণের কাছেই থাকছে।

৫. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অঙ্গীকার

গণভোটের বৈধতা সরকারপ্রধানের নীরবতার ওপর নির্ভর করে না, বরং এটি নির্ভর করে ভোটাররা স্বাধীনভাবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন কি না, তার ওপর। প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান মূলত সংস্কারের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতারই প্রমাণ। পরিবর্তন ও স্থিতিশীলতার এই সন্ধিক্ষণে নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তা ভোটারদের সিদ্ধান্তকে আরও অর্থবহ ও তথ্যভিত্তিক করবে। শেষ পর্যন্ত জনগণের রায়ই হবে চূড়ান্ত আর সেই রায়কে স্পষ্ট করাই নেতৃত্বের সার্থকতা।

এর আগে গতকাল শনিবার এক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) আলী রীয়াজ বলেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর প্রচারণায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সামনে কোনো আইনগত বাধা নেই। তিনি বলেছেন, এবারের গণভোট কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানো কিংবা কোনো দলকে ক্ষমতায় যেতে বাধা দেওয়ার অ্যাজেন্ডা নয়, এটি রক্তের অক্ষরে লেখা জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক রাষ্ট্র সংস্কারের অ্যাজেন্ডা, যা বাংলাদেশের সব মানুষের। এই গণভোট হলো জনগণের সম্মতি নেওয়ার একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে নির্ধারণ হবে আগামী দিনের বাংলাদেশ কোন পথে চলবে।

‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচার চালানো হবে

৩২ আসনে ফ্যাসিবাদবিরোধী সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের সমর্থন দেবে ইসলামী আন্দোলন

অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনা বাতিলের দাবি

পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি: হাসিনা-টিউলিপ-রাদওয়ানের মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি

ইসির ভেতরে আপিল শুনানি, বাইরে ছাত্রদলের ঘেরাও কর্মসূচি

প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত আজ

জাতীয় সংসদ নির্বাচন: দলগুলোর কাঠগড়ায় ইসি

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন আরও ৪৪ জন, আপিল শুনানি শেষ কাল

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে মাঠে ইইউর ৫৬ পর্যবেক্ষক

জুলাইয়ের চেতনার নামে গরু কোরবানি, মধ্যরাতে অফিসে হামলা, আগুন দেওয়া নজিরবিহীন: হাসান হাফিজ