হোম > জাতীয়

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু হলো এআই ‘অটো ফাইন সিস্টেম’, সুবিধা কী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

মঙ্গলবার হাইওয়ে পুলিশের ‘কমান্ড, কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টার’-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে অটো ফাইল সিস্টেম প্রযুক্তির উদ্বোধন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় মামলা ও জরিমানা ব্যবস্থা বা ‘অটো ফাইন সিস্টেম’-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাটে হাইওয়ে পুলিশের ‘কমান্ড, কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টার’-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই প্রযুক্তির উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এই ব্যবস্থার সফলতা ও অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পর্যায়ক্রমে দেশের সব মহাসড়কে এআই ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় জরিমানা ব্যবস্থা চালু করা হবে।

কীভাবে কাজ করবে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’?

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোট ৪৯০টি পিলারে বিশেষ স্বয়ংক্রিয় এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাসড়কে নির্দিষ্ট গতিসীমা অতিক্রম করা, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, উল্টোপথে গাড়ি চালানো কিংবা অবৈধ পার্কিংয়ের মতো অপরাধ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও রেকর্ড করা হবে।

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট যানবাহনের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ডেটাবেজে চলে যাবে। একই সঙ্গে যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে মামলার বিবরণ সম্বলিত এসএমএস পৌঁছে যাবে।

যানবাহনের মালিকেরা যেকোনো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)-এর মাধ্যমে ঘরে বসেই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। একই যানবাহন বারবার ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে বিআরটিএ-র নিয়ম অনুযায়ী তার রেজিস্ট্রেশন বাতিলের মতো কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে মহাসড়কে যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মালিক পক্ষ, শ্রমিক সংগঠন কিংবা পুলিশ—যার মাধ্যমেই চাঁদাবাজি হোক না কেন, সবকিছুই সিসিটিভি ও এআই ক্যামেরার রেকর্ডে জমা থাকবে। প্রযুক্তির সহায়তায় মহাসড়ককে সম্পূর্ণ চাঁদাবাজিমুক্ত করা সম্ভব হবে।’

মহাসড়কে লাইসেন্সহীন ও অননুমোদিত থ্রি-হুইলার বা নন-মোটরাইজড (অযান্ত্রিক) যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। তবে সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়া ও ফিডার রোড ব্যবহারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে হাইওয়ে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।