দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন এ নির্দেশ দেন।
আজ দুপুরের পর মাকসুদা বেগমকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শেরেবাংলা নগর থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গতকাল সোমবার মাকসুদা বেগমকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। একই দিনে এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
এর আগে গত রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের পাঁচ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় মৃত মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও মাসুম বিল্লাহর শ্যালক ওবায়দুর রহমান—এই তিনজনকে আসামি করা হয়।
মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, গত জুনে গাজী নজরুলের সঙ্গে ভুক্তভোগীর ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। তিনি সংসদ সদস্য হওয়ায় ভুক্তভোগী মরিয়ম, এমপির প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমসহ শেরেবাংলা নগর থানার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের পাঁচ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন। আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী ভুক্তভোগী মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে তাঁর পরিবারকে জানিয়েছেন। গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ভুক্তভোগীর বাবাকে ফোন করে দ্রুত তাঁদের বাসায় যেতে বলেন। বাসায় গিয়ে মরিয়মের বাবা জানতে পারেন, বাসার ভেতরের কক্ষে মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শেরেবাংলা নগর পুলিশ পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মরিয়মের লাশ উদ্ধার করে। এ সময় বিছানা থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়। আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় তাঁর মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।