বাজারে আটটি ব্র্যান্ডের ফেয়ারনেস ক্রিমে বিপজ্জনক মাত্রায় পারদ শনাক্ত করেছে পণ্যের মান প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। এই আট ক্রিমের সাতটিই পাকিস্তানি পণ্য। একটি চীনা পণ্য। এসব পণ্য বিপণন, মজুত ও ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
আজ মঙ্গলবার বিএসটিআইয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, দীর্ঘদিন উচ্চ মাত্রার পারদযুক্ত স্কিন ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, স্থায়ী দাগ, অ্যালার্জি, কিডনির ক্ষতি, স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীর ক্ষেত্রে অনাগত শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে, দেশীয় বাজারে অবৈধভাবে আসা বিভিন্ন ত্বক ফরসাকারী ক্রিম পাওয়া যাচ্ছে। লাগেজ বা বিভিন্ন চোরাই পথে দেশে আসা এসব পণ্যের মান বিএসটিআই যাচাই করতে পারছে না। বাজার থেকে সংগ্রহ করা এমন রং ফরসাকারী ক্রিম বিএসটিআই ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় ৮টি ব্র্যান্ডের ক্রিমে অত্যন্ত বিপজ্জনক মাত্রায় পারদ শনাক্ত হয়েছে। বাংলাদেশে নির্ধারিত মান অনুযায়ী পণ্যে পারদের নির্ধারিত সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা ১ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন)। তবে এসব ক্রিমে পারদের মাত্রা তার চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া গেছে।
বিএসটিআই জানায়, বাজার থেকে সংগৃহীত নমুনা বিএসটিআই পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে পাকিস্তানের এসজে এন্টারপ্রাইজের চাঁদনি হোয়াটেনিং ক্রিমে ১২০ দশমিক ৩৯ পিপিএম; পাকিস্তানের কিউসিআই কোম্পানির নিউ ফেস বিউটি ক্রিমে ৪৪ দশমিক ৭২ পিপিএম, পাকিস্তানের লোয়া ইন্টারন্যাশনালের নাভিয়া বিউটি ক্রিম ও নাভিয়া হোয়াটেনিং ক্রিমে যথাক্রমে ৫৯ দশমিক ৮২ পিপিএম ও ৭৯ দশমিক ৭০ পিপিএম, পাকিস্তানের নুর এন্টারপ্রাইজের নুর হোয়াটেনিং ক্রিমে ৮২ দশমিক ৭৬ পিপিএম, পাকিস্তানের ক্রিয়েটিভ কসমেটিকসের ডিউ বিউটি ক্রিমে ১২৩ দশমিক ৩৭ পিপিএম, পাকিস্তানের গৌরি কসমেটিকস প্রাইভেট লিমিটেডের গৌরি বিউটি ক্রিমে ৫৬ দশমিক ৯৩ পিপিএম এবং চায়নার জিএলডিজেবি (হারবিন) কসমেটিকস কোম্পানি লিমিটেডের ন্যাচারাল পার্ল স্ক্রিন ক্রিমে ৬৭ দশমিক ৪৯ পিপিএম পারদের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, বিএসটিআই দেশের বাজারকে নিরাপদ রাখতে নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষাগারে পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ, বাজার তদারকি এবং মোবাইল কোর্ট ও সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম জোরদার করেছে। তিনি অজ্ঞাত বা অনুমোদনবিহীন ত্বক ফরসাকারী ক্রিম ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে, প্রসাধন পণ্য কেনার আগে অবশ্যই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ও পণ্যের বৈধতা যাচাই করতে এবং সন্দেহজনক কোনো পণ্য সম্পর্কে তথ্য থাকলে বিএসটিআইকে অবহিত করার জন্যও অনুরোধ জানান।