হোম > জাতীয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই নৃত্যশিল্পীকে ধর্ষণের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি আসকের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের জন্য ডেকে নিয়ে তিতাস নদীর মাঝখানে দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গভীর ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

আজ রোববার এক বিবৃতিতে আসক এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানায়।

বিবৃতিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ তুলে ধরে আসক জানায়, ১১ সেপ্টেম্বর একটি অনুষ্ঠানে নেওয়ার কথা বলে দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে নৌকায় তুলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করা হয়। পরে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

আসক বলছে, এ ধরনের ঘটনা নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রতি চরম অবমাননার পাশাপাশি তাঁদের পেশাগত অধিকার ও স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকারের ওপরও গুরুতর আঘাত। একজন নারী তাঁর পছন্দের পেশায় যুক্ত থেকে সম্মানের সঙ্গে কাজ করবেন এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ পাবেন—এটি তাঁর মৌলিক অধিকার। নৃত্যশিল্পী হিসেবে কাজ করা কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পরিবেশনা করা কাউকে সহিংসতা বা নিপীড়নের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপদে কাজ করার অধিকার রয়েছে এবং এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এ ঘটনাকে শুধু কয়েকজন ব্যক্তির নৃশংস অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা, আইন প্রয়োগ এবং নারীর নিরাপদ চলাচল ও কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এ ঘটনা গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।

আসক দাবি করেছে, ঘটনায় জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপের কারণে যেন অপরাধীদের কেউ আইনের আওতা থেকে বেরিয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের পরিচয় ও গোপনীয়তা সুরক্ষিত রাখতে হবে।

আসক মনে করে, নারীর নিরাপত্তা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি সমঅধিকার, মর্যাদা ও মানবাধিকারের প্রশ্ন। নারীরা যাতে ভয় বা নিরাপত্তাহীনতা ছাড়াই তাঁদের পছন্দের পেশায় কাজ করতে পারেন, রাষ্ট্রকে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।