দেশের সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গত জুলাই মাসে ২০২ কোটি ৬৩ লাখ ৪৯ হাজার টাকার চোরাচালান পণ্য ও মাদক জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
আজ মঙ্গলবার বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজিবি জানায়, জব্দ করা চোরাচালান পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৪ কেজি ২৫৪ গ্রাম স্বর্ণ, ২১৬ পিস ডায়মন্ডের নাকফুল, ৭ কেজি ৯৩০ গ্রাম রৌপ্য, ১৩ হাজার ৬৩টি শাড়ি, ২ হাজার ৭১০টি থ্রিপিস, শার্টপিস, চাদর ও কম্বল, ৮ হাজার ৮৮৬টি তৈরি পোশাক, ২ হাজার ৪১৬ মিটার থান কাপড় এবং ১৫ হাজার ৫২৭টি ইমিটেশন গয়না।
এ ছাড়া ৩ লাখ ২ হাজার ৩৯৪টি কসমেটিকসসামগ্রী, ৮ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫৬ পিস আতশবাজি, ১ হাজার ৭৫১ ঘনফুট কাঠ, ২ লাখ ২১ হাজার ৯০ কেজি কয়লা, ৬ হাজার ৪৪৬ কেজি চা-পাতা, ৬২৪টি মোবাইল ফোন, ৪ হাজার ৩৬০টি মোবাইলের ডিসপ্লে ও ৩৬ হাজার ১৭০টি মোবাইল যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবির অভিযানে ২০ হাজার বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জাম, ৭১ হাজার ৪০০ পিস জিলেট ব্লেড, ৩ হাজার ৭০০টি চশমা, ৪৭ হাজার ৭৭৬ কেজি জিরা, ৪২ হাজার ৯৩১ কেজি রসুন, ১৩ হাজার ৩২৯ কেজি চিনি, ১২ হাজার ৪৮৬ কেজি সার, ১৭ হাজার ৪৭৯ কেজি কারেন্ট জাল, ৬ লাখ ৯৪ হাজার ১৭টি বিভিন্ন ধরনের ওষুধ এবং ১ কেজি ৭০ গ্রাম সাপের বিষও জব্দ করা হয়।
চোরাচালানে ব্যবহৃত বিভিন্ন যানবাহনের মধ্যে ১২টি ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান, ৮টি পিকআপ, ৩টি প্রাইভেট কার, ৬টি ট্রলি, ৫৫টি সিএনজি/ইজিবাইক/অটোরিকশা, ৫৯টি মোটরসাইকেল, ৪৭টি বাইসাইকেল/ভ্যান এবং ১২৭টি নৌকা জব্দ করেছে বিজিবি।
এ ছাড়া অভিযানে ৯টি দেশি-বিদেশি পিস্তল, একটি রাইফেল, ৫টি ম্যাগাজিন, ৬০ রাউন্ড গোলাবারুদ ও ৭টি অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজিবির অভিযানে গত জুলাই মাসে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যও জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২১ লাখ ১০ হাজার ২৫৮ পিস ইয়াবা, ২ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস, ৭১ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ২৪৩ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৫২৬ বোতল বিদেশি মদ, ১ হাজার ৬৩৯ দশমিক ৫ লিটার বাংলা মদ, ৭৫৪ ক্যান বিয়ার এবং ১ হাজার ৮০৬ কেজি গাঁজা।
এ ছাড়া ২ লাখ ৫৮ হাজার ৩৮৬টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট/ইনজেকশন, ১৬ হাজার ৫৮০ বোতল বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় সিরাপ, ১৮ হাজার ৬৮২ পিস বিভিন্ন ধরনের ওষুধ/ট্যাবলেট এবং ১ লাখ ১৯ হাজার ১৪১ প্যাকেট বিড়ি ও সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯১ জন চোরাচালানিকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৩১ জন বাংলাদেশি, ৩ জন ভারতীয় ও ৮১ জন মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।