হোম > জাতীয়

আন্তসীমান্ত নদী ও গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে: হুমায়ুন কবির

বাসস, ঢাকা  

হুমায়ুন কবির। ছবি: বিএনপির ফেসবুক পেজ

বাংলাদেশ-ভারতের পানি বণ্টনসংক্রান্ত সমস্যাগুলো আলোচনা, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করতে হবে বলে মনে করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি আরও বলেন, ‘একইসঙ্গে এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের প্রাসঙ্গিক নীতিমালাও বিবেচনায় নিতে হবে। বর্তমানে আমরা এ অবস্থানেই রয়েছি।’

আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)-এর মিলনায়তনে ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে পুনর্বিবেচনা: যুব নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

আন্তঃসীমান্ত নদী ও গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আলোচনা ও সংলাপ চলছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।’

হুমায়ুন কবির বলেন, দুই দেশের সব পর্যায়ে আন্তরিকতা ও সহযোগিতার মানসিকতা থাকলে এ বিষয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব। তিনি বলেন, ‘জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, নেতৃত্ব এবং উভয় দেশের পানি আলোচনায় নিয়োজিত প্রতিনিধিদের মধ্যে যদি দুই দেশের মধ্যে আন্তরিকতা থাকে তাহলে আমরা অবশ্যই এ বিষয়ে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক সমাধানে পৌঁছাতে পারব।’

তিনি জানান, বাংলাদেশ এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। ভারতীয় পক্ষও তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের নেতৃত্ব সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রদর্শন করলে অগ্রগতি সম্ভব।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, ‘নেতৃত্ব যদি এগিয়ে এসে সহযোগিতা করার মানসিকতা ধারণ করে, তাহলে আমরা অবশ্যই একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক সমাধানে পৌঁছাতে পারব।’

বাংলাদেশ-ভারতে ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে। ফলে পানি ব্যবস্থাপনা ও ন্যায্য পানি বণ্টন দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অভিন্ন নদীগুলোর বিষয় নিয়ে আলোচনার প্রধান দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া হিসেবে যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) কাজ করছে।

১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করাসহ দেশের স্বার্থ সুরক্ষায় একটি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।

বিআইআইএসএস আয়োজিত এ সেমিনারে বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে পানি কূটনীতি পর্যালোচনা এবং সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এতে আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের পাশাপাশি পানি-সংক্রান্ত ন্যায়বিচার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তরুণদের আরও বেশি অংশগ্রহণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।