অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ও মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি। ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল নিষ্পত্তি করে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চ এ রায় দেন। তদন্তে দুর্বলতা, প্রত্যক্ষদর্শী ও আলামত না থাকায় আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
স্ত্রী ও অনাগত সন্তানকে হারানোর পর থেকে এই পর্যন্ত কেটে গেছে ১৮ বছর।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, যশোরের অভয়নগরে ২০০৮ সালের ১৫ জানুয়ারি বিকেলে স্বামীর বাড়িতে নিজ ঘরে গৃহবধূ সবুরা বেগম অগ্নিদগ্ধ হন। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলে পরদিন মৃত সন্তানের জন্ম হয়। ওই বছরের ২১ জানুয়ারি সবুরার বাবা সামছুর শেখ বাদী হয়ে জামাতা আব্দুল্লাহসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২৮ জানুয়ারি মারা যান সবুরা।
ওই ঘটনায় করা মামলায় ২০১৯ সালে আসামি আব্দুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-১। পরে ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। এ ছাড়া গ্রেপ্তারের পর আসামি আব্দুল্লাহ জেল আপিল করেন।
আসামির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তাসাদ্দর রায়হান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ঘটনার সাত দিন পর মামলা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ ছিল হাত-পা বেঁধে, লেপ-তোশকে কেরোসিন তেল দিয়ে আগুন দেওয়ার। কিন্তু পুলিশ কোরোসিনসহ যেসব উপকরণে আগুন লাগিয়েছে, তা জব্দ তালিকায় দেখায়নি। সন্তান হাসপাতালে রিসিভ করেন স্বামী। স্বামী যদি আগুন লাগাতেন, তাহলে তো পালিয়ে যেতেন। কিন্তু তিনি হাসপাতালে ভিকটিমকে চিকিৎসা করিয়েছেন।
ইমাম হোসেন আরও বলেন, এ ছাড়া স্বামী ঘটনাস্থলে ছিলেন বা ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন, এমন কিছু প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে পারেনি। আর কী দিয়ে আগুন লাগিয়েছে, সেটাও প্রমাণ করতে পারেনি।