ভুল করে ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ ট্রেনে উঠে পড়েছিলেন ৪৪ বছর বয়সী এক নারী। ট্রেনের টিকিট না থাকায় রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি সিরাজগঞ্জ যাওয়ার কথা জানান। পরে তাঁকে সিটে বসিয়ে দেওয়ার কথা বলে ক্যানটিন রুমে নিয়ে যান ট্রেনের এক ক্যানটিন বয়। সেখানে আরও দুজনের সহযোগিতায় ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে ভুক্তভোগী নারী ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সহায়তা চাইলে অভিযান চালিয়ে তাঁকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত ক্যানটিন বয় আবু বক্কর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মুখপাত্র পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার রাতে ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানান, চলন্ত ট্রেনে তিনজন মিলে তাঁকে ধর্ষণ করেছে।
৯৯৯ সূত্রে জানা যায়, কলটি রিসিভ করেন ৯৯৯ কলটেকার কনস্টেবল মো. কাইফ শাহ। পরে চলন্ত ট্রেনটির অবস্থান শনাক্ত করে ট্রেনের পরবর্তী স্টপেজ পাবনার শান্তাহার রেলওয়ে থানাকে বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে ৯৯৯ পুলিশ ডিসপাচার এএসআই তরুন কুমার আচার্য্য ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখেন।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী নারী (৪৪) ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে সিরাজগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশে ভুলবশত টিকিট ছাড়া কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ওঠেন। ট্রেনে রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্য তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তিনি সিরাজগঞ্জ যাওয়ার কথা জানান।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে ট্রেনের ক্যানটিন বয় আবু বক্কর সিদ্দিক (২২) ও আরও দুজন তাঁকে সিটে বসিয়ে দেওয়ার কথা বলে ক্যানটিন বয়দের কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তিনজন মিলে তাঁকে ধর্ষণ করেন।
৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে শান্তাহার রেলওয়ে থানার একটি দল ট্রেনটি শান্তাহার স্টেশনে পৌঁছালে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে। এ সময় ধর্ষণের অভিযোগে ক্যানটিন বয় আবু বক্কর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নাটোরের লালপুর থানার আব্দুলপুর এলাকার মৃত মাসুদ রানার ছেলে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত অপর দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।