হোম > জাতীয়

১৭২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: আনিসুল হকের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্র

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ১৭২ কোটি ২৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অভিযোগপত্র দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে তাঁর ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি।

আজ বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এসব তথ্য জানান।

দুদকের তদন্তে আনিসুল হকের স্বনামে ও বেনামে মোট ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮১ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে পারিবারিক ব্যয় বাদ দিয়ে তাঁর বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ৮ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ টাকা। ফলে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকা।

তদন্তে আনিসুল হকের নিজ নামে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকা মূল্যের সম্পদ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির নামে আরও ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

এই তিনজন হলেন—আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেসা বেগম হক, ভাগনে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবাল। তাঁদের নামে যথাক্রমে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ৩২১ টাকা, ২০ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং ৪০ কোটি ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩৬ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক।

দুদক জানায়, জেবুন্নেসা বেগম হকের নামে সিটিজেনস ব্যাংকের ১০ কোটি টাকার শেয়ার ও ১৩ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে ওই ব্যাংকের ২০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার রয়েছে।

এদিকে আনিসুল হক ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলনের তথ্য পেয়েছে দুদক। এসব হিসাবে মোট ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের তদন্তে আনিসুল হক, জেবুন্নেসা বেগম হক কলি, শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ইকবালকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫ (২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদক, সজেকা, ঢাকা-১-এর করা মামলাটি ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম।