হোম > জাতীয়

কোরিয়ায় বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান বাড়াতে নতুন খাত চায় ঢাকা

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পরিচালক হান উনসুকের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে নতুন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বিদ্যমান কোটা সর্বোচ্চ ব্যবহার, রোস্টার ব্যবস্থাপনা, কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং কোরিয়ান ভাষা প্রশিক্ষণ আরও কার্যকর করতে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ঢাকা।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পরিচালক হান উনসুকের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের আরও বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কোটা ব্যবহারের সর্বোচ্চকরণ, রোস্টার ব্যবস্থাপনা, কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ এবং কোরিয়ান ভাষা প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ আগ্রহী।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতসহ আরও কয়েকটি খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টি দক্ষিণ কোরিয়া সরকার বিবেচনা করতে পারে। এসব খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হলে দুই দেশের শ্রম সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (ইপিএস) একটি গুরুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে কল্যাণকর কাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও সহযোগিতার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, দক্ষতা, শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীরা কোরিয়ার বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৫৯ জন বাংলাদেশি কর্মী দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। ইপিএসের অন্যতম প্রধান কর্মী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারণ করতে আগ্রহী।

অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পরিচালক হান উনসুক বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই দক্ষিণ কোরিয়া মূলত ইপিএস পদ্ধতির মাধ্যমে বিদেশি কর্মী গ্রহণ করে। বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে দেশটি আগ্রহী হলেও কর্মী নির্বাচন প্রক্রিয়া শতভাগ স্বচ্ছ রাখার বিষয়ে তারা সমানভাবে সতর্ক।

ইপিএসের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা আরও নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

সৌজন্য সাক্ষাতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।