গণতন্ত্রের কাঠামোতে না থাকলে একটি দলের জনপ্রিয়তা থাকলেও সেই দল গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাজনীতি করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। রাষ্ট্র চাইলে আদালতের মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের আবেদন করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘কদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন—আওয়ামী লীগ একটা মাফিয়া দল। এই কথাটা আমি বহু বছর থেকে বলে আসছি। রাষ্ট্র যদি চায় আইসিটিতে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আবেদন করতে পারে।’
রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পরিস্থিতিতে গণতন্ত্রের প্যারামিটারে একটা দলকে গণতান্ত্রিক হতে হয়। একই কারণে জার্মানিতে ২০ শতাংশ ভোট পেয়েও একটা দল নিষিদ্ধ হয়েছিল।
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠে থাকা প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো প্রতীকী কারণে রাজপথের কর্মসূচিতে আছে। সেনাবাহিনী মাঠে আছে মানে এই নয় যে তারা (আওয়ামী লীগ) অনেক কিছু করে ফেলতে পারে। কর্মসূচি পালন করার নৈতিক সাহস আওয়ামী লীগের নেই। তাদের কর্মসূচি করতে হলে আমাদের সব স্মৃতি মুছে যেতে হবে। লুটপাটকারী, মাফিয়া, চোর-বাটপারের নৈতিক সাহস থাকে না। ছোটখাটো নাশকতার সক্ষমতা হয়তো আছে। কারণ, তাদের প্রচুর টাকা আছে। তার মানে এই না যে সরকার মনে করে আওয়ামী লীগ অনেক কিছু করতে পারবে। জুলাইয়ে বন্দুকের সামনে মানুষ দাঁড়াতে পেরেছিল। কারণ, তাদের নৈতিক সাহস ছিল। তারা ধান্দাবাজ ছিল না। এত গুলি, এত মৃত্যু, এরপরও মানুষ রাস্তায় নেমেছে।’
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ হবে কি হবে না—সেই সিদ্ধান্ত হবে আদালতে। বিচার শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি নিষিদ্ধ। এখন আওয়ামী লীগের কেউ কর্মসূচি করলে আইনবহির্ভূত কাজ করছে। সরকার ব্যবস্থা নেবে—এটাই স্বাভাবিক।