ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি অভিযোগ করেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা আশা করেছিলাম সরকার বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেবে। কিন্তু এখন উল্টো ব্যাংকের ভেতরে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বসানো হচ্ছে।’
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংক নিয়ে আনা এক নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
তাহের বলেন, ‘আমি অনুরোধ করব যে আগের মতো করে ইসলামী ব্যাংকে ইসলামি কায়দায় সৎ লোকদের দিয়েই পরিচালিত করার জন্য চেষ্টা করতে হবে। এস আলমের লোককে বসানোর জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো এস আলমের লোককে ইসলামী ব্যাংক আশ্রয় দিতে পারবে না।’
ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুকের প্রসঙ্গ তুলে তাহের বলেন, তাঁদের নেতৃত্বে ইসলামী ব্যাংক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছিল এবং গ্রাহকদের আস্থাও পুনরুদ্ধার হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে চেয়ারম্যান পরিবর্তন এবং এমডিকে পদত্যাগে বাধ্য করার কারণ সরকারকে ব্যাখ্যা করতে হবে।
তাহের বলেন, ‘কোন কারণে চেয়ারম্যানকে পরিবর্তন করা হলো, কোন কারণে এমডিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হলো, সেটি জাতির কাছে পরিষ্কার হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে জুবায়দুর রহমান ও ওমর ফারুককে পুনর্বহাল করে আগের ব্যবস্থাপনা কাঠামো ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।’
ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা কাঠামোর প্রসঙ্গ তুলে তাহের অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপ বর্তমানে ব্যাংকের ৮২ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, অন্যান্য শেয়ারধারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে ডিজিএফআইকে দিয়ে জোর করে দখল করে নিয়ে গেছে। তাই প্রকৃত শেয়ারধারীদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মালিকানা কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।
তাহের বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর ইসলামী ব্যাংক কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছিল। গ্রাহকেরা নতুন করে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা আমানত রেখেছেন। আমরা আশা করেছিলাম সরকার বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেবে। কিন্তু এখন উল্টো ব্যাংকের ভেতরে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বসানো হচ্ছে।’
ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাহের বলেন, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তাঁকে ইসলামী ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। সততা ও দক্ষতা ছিল ইসলামী ব্যাংকের মূল শক্তি। সেখানে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কাউকে বসানো হলে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তাহের আরও অভিযোগ করেন, ব্যাংকটিতে আবারও এস আলম গ্রুপের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় এস আলম-সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ফিরিয়ে আনা হলে গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও অনাস্থা তৈরি হবে।
বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ইসলামী ব্যাংককে আগের মতো সৎ, দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়বে এবং তা বৃহত্তর অস্থিরতার কারণ হতে পারে।
তাহের বলেন, ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা সাধারণ মানুষ এবং ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থাশীল গ্রাহক। তাই তাঁদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ব্যাংকটি যেন সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং অতীতে যেভাবে মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তা পর্যালোচনা করা হোক।
তাহের সতর্ক করে বলেন, গ্রাহকদের উদ্বেগ দূর করা না হলে আন্দোলনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে, যা দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য নতুন সংকট তৈরি করবে।