হোম > জাতীয়

সংসদীয় দলের সভা: প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে বিব্রত সরকার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সংসদে অতিকথন এবং আক্রমণাত্মক আচরণ পরিহার করে গঠনমূলক বক্তব্য উপস্থাপন করতে সরকারি দলের সদস্যদের নির্দেশনা দিয়েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় সংসদ ভবনে গতকাল মঙ্গলবার সরকারি দলের সংসদীয় সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন বলে জানা গেছে।

সংসদ ভবনের সরকারদলীয় সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে, সংসদে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দেওয়া একটি বক্তব্য নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে সরকারি দল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জড়িয়ে প্রতিমন্ত্রীর ওই বক্তব্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও সমালোচনা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর ওই বক্তব্য সরকারকেও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে বলে জানা গেছে।

গতকাল সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের ‘ট্রফি’ দিয়ে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আসেন।

সভার সূত্র বলছে, মীর শাহে আলমের এ ধরনের বক্তব্য নিয়ে সভায় অনেককে কানাকানি করতে দেখা গেছে। সরকারের কাজ শুরুর সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলেও মন্তব্য করতে শোনা গেছে কাউকে কাউকে।

সভার সূত্র বলছে, বিভিন্ন বিল, বিধি ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা নিয়ে নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। আলোচনায় কেউ যেন কাউকে কটাক্ষ করে বক্তব্য না দেন, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেন তিনি; বিশেষ করে যাঁর যতটুকু বক্তব্য কিংবা পয়েন্ট উত্থাপন করা প্রয়োজন, তিনি যেন ততটুকুই দেন। অতিরিক্ত বক্তব্য কিংবা মন্তব্য করা যাবে না। কোনো অসত্য তথ্য উত্থাপন করা যাবে না।

এ ছাড়া সভায় সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধসহ ৬টি অধ্যাদেশের ওপর আলোচনা করা হয়। এই অধ্যাদেশগুলো এখন পাস না হলেও পরে তা সংশোধন বা সংযোজন-বিয়োজন করে সংসদ বিল আকারে উত্থাপন করা হতে পারে বলেও জানা গেছে। এসব অধ্যাদেশ সম্পর্কে বক্তব্য, বিবৃতি, নোটিশ দিতে সতর্ক থাকতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছেন সংসদ নেতা। সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের যথাসময়ে সংসদে উপস্থিত থাকারও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, সংসদে বিলগুলো পাসের ক্ষেত্রে সবার ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে এবং সবাই যেন যথাসময়ে সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত থাকেন, সে ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা গুম প্রতিরোধ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ বিচার বিভাগসংশ্লিষ্ট চারটি অধ্যাদেশ অনুমোদন দেবে না সরকারি দল। সংসদীয় দলের সভায় এ বিষয়ে সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বক্তব্য দেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন, এমন একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সভায় আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বেশির ভাগ অধ্যাদেশই সর্বসম্মতিক্রমে বিল আকারে সংসদে পাস হবে। কিন্তু গুম প্রতিরোধ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ বিচার বিভাগসংশ্লিষ্ট চারটি অধ্যাদেশ বিষয়ে বিএনপির সংসদ সদস্যদের ভিন্নমত আছে। তাঁরা মনে করছেন, এই অধ্যাদেশগুলো সংশোধনী ছাড়া পাস করা হলে নির্বাহী বিভাগের কার্যকরতা এবং নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।

সভায় বলা হয়, এই অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে বাইরে নানা নেতিবাচক আলোচনা-সমালোচনা আছে। বিরোধী দল অধ্যাদেশগুলো হুবহু পাস করার পক্ষে। বিএনপির সংসদ সদস্যদের বিলগুলোর ব্যাপারে নেতিবাচক বক্তব্য না দিয়ে ‘অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে’ এমন কৌশলী বক্তব্য দিতে দলের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

আগামী শুক্রবার পর্যন্ত দলের সব সংসদ সদস্যকে চিকিৎসা বা বিশেষ জরুরি কোনো কাজ ছাড়া সংসদে উপস্থিত থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

৮ পাম্প ঘুরে তেল না পেয়ে লোকাল বাসে সংসদে এসেছি: জামায়াতের এমপি সালাহ উদ্দিন

বগুড়া ও শেরপুরে নির্বাচনী দায়িত্বে অবহেলা বরদাশত করা হবে না—সদস্যদের আনসার মহাপরিচালক

৩ মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় করার নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের রায় প্রকাশ

বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগে ক্ষোভ-হতাশা

মানবতাবিরোধী অপরাধ: হাছান মাহমুদসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ট্রাইব্যুনালের

৫ মামলায় বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন শুনানি ২৬ এপ্রিল

বাসসের নতুন এমডি ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ

একাত্তর, নব্বই ও চব্বিশের তিন ট্রফিই বিএনপির ঘরে: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

সংসদে বিরোধী দল খুবই সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করছে: ইউএনডিপি প্রতিনিধিকে স্পিকার

রাষ্ট্রপতি নিজের মতো ভাষণ দিতে পারেননি, ক্ষমতার ভারসাম্য কোথায়—প্রশ্ন রুমিন ফারহানার