জুলাইয়ের চেতনার নামে গরু কোরবানি দেওয়া, মধ্যরাতে অফিসে হামলা করা, আগুন দেওয়া নজিরবিহীন ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ। আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের (কেআইবি) মিলনায়তনে গণমাধ্যম সম্মিলনে তিনি এ কথা বলেন।
হাসান হাফিজ বলেন, ‘আমরা জুলাইয়ের চেতনার নামে যা দেখেছি—গরু কোরবানি দেওয়া, মধ্যরাতে অফিসে আক্রমণ করা, আগুন দেওয়া, এটা নজিরবিহীন। জুলাই আন্দোলনে আমরা যতটা অর্জন করেছি, ততটা আমাদের জন্য কলঙ্ক। ঘৃণায় বিশ্ববাসীর কাছে মুখ দেখানোর মতো অবস্থা আমাদের নেই। এটি খুব মর্মান্তিক। আমরা বিচ্যুত হতে চাই না। আমরা জুলাই চেতনাকে সম্মান করতে চাই, সেটিকে এগিয়ে নিতে চাই। আমরা গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে সুগম করতে চাই।’
বিগত দেড় দশকে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও দমন-পীড়নের কথা তুলে ধরেন প্রেসক্লাব সভাপতি। তিনি বলেন, ‘বিগত দেড় দশকে অনেক মিডিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, নিপীড়ন ও নিষ্পেষণ করা হয়েছে, অনেক অফিসে ভাঙচুর করা হয়েছে, সম্পাদকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য যত দিন আকাঙ্ক্ষা থাকবে, এই লড়াইটা কিন্তু আমাদের চলবে। আমরা সেটি জেনেশুনেই মিডিয়াতে এসেছি। অন্য ১০টা পেশার থেকে এটা ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। এটি মহৎ পেশা, সে জন্য এটার যেমন রোমাঞ্চ আছে, একই রকম চ্যালেঞ্জও আছে।’
হাসান হাফিজ বলেন, ‘সাংবাদিকতায় একটা অজানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে আমাদের যেতে হয়। সামনে যে নির্বাচন, আমি দাবি করব, জুলাইয়ের যে গণপ্রত্যাশা সেটির প্রতিফলন আমরা দেখতে চাই। আমরা সেটির হিসাব কড়ায়গন্ডায় নিতে চাই। এই চ্যালেঞ্জটা শুধু কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, কিংবা ২৩ জন উপদেষ্টার নয়। এটি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমরা যেন নিজেদের ভেতর থেকে বদলাতে পারি।’
প্রেসক্লাব সভাপতি আরও বলেন, ‘আমার স্বাধীন গণমাধ্যম চাই, আমরা শত মতের বিকাশ চাই, আমরা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে চাই, দেশপ্রেমের পরিচয় দিতে চাই। আমরা সততা, নিষ্ঠা আন্তরিকতার পরিচয় দিতে চাই। এটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মুক্তিযুদ্ধ, জুলাইয়ের চেতনা—সবকিছুই সম্পর্কযুক্ত।’
এদিন সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে গণমাধ্যম সম্মিলন শুরু হয়। সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এবং সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে এ সম্মিলনের আয়োজন করে।
নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদের সদস্য, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার, জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম, ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এবং ঢাকার বাইরে কর্মরত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সম্পাদক-প্রকাশকেরা সম্মিলনে অংশ নেন।
দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতার জন্য একসঙ্গে দাঁড়ানোর এ আয়োজনে বিভিন্ন পর্যায়ের গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও কলাম লেখকেরাও অংশ নেন। গণমাধ্যমের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সাংবাদিকেরা তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেন।