হোম > জাতীয়

১২ ফেব্রুয়ারির আগে শেরপুর-৩ আসনে তফসিল ঘোষণার সুযোগ নেই: ইসি মাছউদ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি আবদুর রহমানেল মাছউদ। ছবি; সংগৃহীত

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর পর ওই আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ। তিনি স্পষ্ট করেছেন, আইনি জটিলতার কারণে ১২ ফেব্রুয়ারির আগে এই আসনে নতুন করে তফসিল ঘোষণার কোনো সুযোগ নেই।

আজ বুধবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে ইসি আবদুর রহমানেল মাছউদ এসব কথা বলেন।

ইসি মাছউদ জানান, আরপিওর ১৭(১) ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো বৈধ মনোনীত প্রার্থী ভোট গ্রহণের আগে মৃত্যুবরণ করেন, তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচন বাতিল করবেন। তিনি বলেন, নতুন তফসিল ঘোষণা করতে হলে কমপক্ষে ১৫ দিন সময় দিতে হয়। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আর মাত্র সপ্তাহখানেক বাকি। ফলে এই সময়ের মধ্যে পুনরায় সব প্রক্রিয়া শেষ করে ভোট গ্রহণ করা সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, শেরপুর জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বাদল (৫১) গতকাল মঙ্গলবার রাতে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে গতকাল দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তিনি মারা যান।

এ বিষয়ে ইসি মাছউদ বলেন, জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর মৃত্যুর পর এই আসনে নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ এই মুহূর্তে নেই। আপিল ও বাছাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন। নতুন তফসিলের বিষয়ে কমিশন আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানাবে।

নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ কেমন আছে—এ প্রশ্নের জবাবে ইসি আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমরা মনে করি, নির্বাচনী পরিবেশ যথেষ্ট ভালো আছে। অবশ্যই বলব তুলনামূলকভাবে ভালো আছে।’

ভোটের পরিবেশ ভালো রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা চেয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা সব রাজনৈতিক দলের কর্মী, তাঁদের নেতৃত্বের নিকট এবং সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট আবেদন জানাই, তাঁরাও একটা সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আমাদের সহযোগিতা করবেন এবং তাঁদের তরফ থেকে যে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার, তাঁরা সেটাই গ্রহণ করবেন।’

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ইসি সচিবালয় এবং নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচনী কার্যক্রমের সমন্বয়বিষয়ক সভা হয় আজ বেলা ১১টায়। সেখানে চারজন নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনী কার্যক্রমের সমন্বয়বিষয়ক সভা সম্পর্কে ইসি আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘মিটিংয়ে আমাদের সর্বশেষ প্রস্তুতি সম্পর্কে আমরা জাস্ট অবহিত হলাম।’

এখন পর্যন্ত নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকেই যাচ্ছে, দুই দলের শীর্ষ নেতারাও পরস্পর বিরোধী কথা বলছেন—এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—জানতে চাইলে ইসি আবদুর রহমানেল বলেন, বাংলাদেশে ৩০০ জন জজের সমন্বয়ে ৩০০টি ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি এবং অ্যাডজুডিকেশন কমিটি কাজ করছে। তা ছাড়া অনেক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। কাজেই, আমরা মনে করি, আচরণবিধি ভঙ্গ করেছে—এই ধরনের যদি অভিযোগ কেউ করেন, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি ও অ্যাডজুডিকেশন কমিটির কাছে আপনারা প্রতিকার চাইতে পারেন।’

আবদুর রহমানেল মাছউদ জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা বিভিন্ন জায়গায় বহু লোককে আচরণবিধি ভঙ্গের কারণে ইতিপূর্বে শাস্তি দিয়েছেন, জরিমানাও করেছেন।

যদি মোবাইল কোর্ট বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ নিজেই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, সে বিষয়ে ইসির পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—জানতে চাইলে ইসি আবদুর রহমানেল বলেন, যদি নির্বাচনে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা নিজেই আচরণবিধি ভঙ্গ করেন বা তাঁর ভেতরে পক্ষপাতিত্ব দেখা দেয়, সে ক্ষেত্রেও যে কেউ ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি ও অ্যাডজুডিকেশন কমিটির কাছে অভিযোগ করতে পারেন।

নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, গুরুতর কোনো বিষয় কমিশন নিজেও আমলে নিতে পারে এবং একটা কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে।

কোনো প্রার্থী যদি কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা কোনো বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বা যেখানে যাওয়ার সুযোগ নেই, সেখানে যদি যাওয়ার চেষ্টা করেন, সেটা আচরণ ভঙ্গ হয় কি না—জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার বলেন, এই প্রশ্নটা খুব জটিল প্রশ্ন। কী ধরনের দুর্ব্যবহার, সেই দুর্ব্যবহার যদি আইনের কাঠামোতে আচরণবিধি ভঙ্গ বোঝায়, তাহলে নিশ্চয়ই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

আবদুর রহমানেল বলেন, এটা ফ্যাক্টস টু ফ্যাক্টস, কেস টু কেস ভিত্তিতে বলতে হবে। একেবারে ইউনিফর্ম একটা কথা কিন্তু বলা যাবে না।

ঢাকা-১৭ আসনে একজন প্রার্থী সেনাবাহিনীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন এবং যেখানে আর্মস নিয়ে যাওয়ার কথা নয়, সেখানে জোরপূর্বক যেতে চেয়েছেন এবং একটা বাহিনীকে খুব অশালীন ভাষায় কথাবার্তা বলেছেন, সে ক্ষেত্রে এটা আচরণবিধি ভঙ্গের পর্যায়ে পড়ে কি না—জানতে চাইলে আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, বিষয়টা সবই তদন্তের বিষয়। কেউ যদি ক্ষুব্ধ হন, তাহলে ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি ও অ্যাডজুডিকেশন কমিটির কাছে তাঁরা অভিযোগ করতে পারেন। সেই কমিটি ঘটনার সত্যটা যদি পান এবং যদি দেখেন যে, কোনো ব্যক্তি বা কোনো প্রার্থী বা কোনো ভোটার যে-ই হোক, তিনি আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন, তাহলে প্রমাণ সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিশনের নিকট সুপারিশ করবেন এবং কমিশন সে মোতাবেক তারপর যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

পাইপলাইন প্রতিস্থাপন: ২১ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

চিকিৎসাধীন মোহনাকে দেখতে হাসপাতালে বিমান উপদেষ্টা

বিদেশ থেকে জামায়াত আমিরের এক্স ‘হ্যাক’ হয় বলে প্রাথমিক ধারণা ডিবির

সারা দেশে ১০৫১ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে চার জেলায় দুদকের অভিযান

নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৭ দিন মাঠে থাকবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ফ্যাসিবাদের করুণ পরিণতির কথা মাথায় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

আওয়ামী লীগের ৪৮ শতাংশ ভোট বিএনপি পেতে পারে: জরিপ

শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত

জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের কী হবে