রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রোববার বেলা ১টার দিকে তাঁকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। সেখান থেকে তিনি সরাসরি সার্কিট হাউজে যান এবং গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন। পরে শহরের সেনুয়া এলাকায় তাঁর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন।
সফরের প্রথম দিন আজ বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলার পাঁচটি উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মীরা অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করেন। রাষ্ট্রপতিকে একনজর দেখতে সেখানে মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।
রাষ্ট্রপতির এ সফরকে ঘিরে পুরো জেলায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শহরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আলোকসজ্জা, বর্ণিল তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে। তাঁকে বরণ করে নিতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক আবু মোহাম্মদ খয়রুল কবির বলেন, ‘আমাদের ঘরের সন্তান দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়েছেন—এটি ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি স্মরণীয় ও জমকালো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’
দুই দিনের এ সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিন আগামীকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে। এদিন তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে জামালপুর এলাকায় এ অনুষ্ঠান হবে।
রাষ্ট্রপতির আগমন ও যাতায়াতের পথজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। অনুষ্ঠানস্থল ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। নিজ জেলার সন্তানকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাছে পেয়ে ঠাকুরগাঁওবাসীর মধ্যে গর্ব ও আবেগের আবহ তৈরি হয়েছে।