হোম > জাতীয়

ফ্যাসিবাদ সংশ্লিষ্টদের তালিকা করা হচ্ছে: সংসদ সচিবালয়

তানিম আহমেদ, ঢাকা 

ফাইল ছবি

বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বেআইনি বা দলীয় কর্মকাণ্ডে জড়িত সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা করা হচ্ছে। সংসদ সচিবালয়ের গঠিত একটি কমিটি এ তালিকা করে তাঁদের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে সুপারিশ করবে।

জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজানকে সভাপতি করে আট সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। সংসদ ভবনে ব্যবহৃত অফিসকক্ষ পুনর্বিন্যাস এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিষয় পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে এ কমিটি গঠন করে ১৬ আগস্ট সংসদ সচিবালয় থেকে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। এ কমিটি জাতীয় সংসদের মূল ভবনের ব্যবহৃত অফিস কক্ষগুলোর পুনর্বিন্যাস, গণপূর্ত অধিদপ্তরের দাপ্তরিক স্থান ব্যবহারের যৌক্তিকতা যাচাইও করবে।

কর্মীদের তালিকা করার বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন নিজান আজকের পত্রিকাকে জানান, বিগত সরকারের সময় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী বাড়াবাড়ি করেছেন। তাঁদের চিহ্নিত করা উচিত। না হলে অন্তর্ঘাতমূলক কাজের আশঙ্কা থাকে।

তবে আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা কাউকে আঘাত বা বের করে দিতে চাই না। আমরা চাই, গণতান্ত্রিক ধারায় প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে মানসিক শপথ অনুযায়ী তাঁরা কাজ করুন।

এর ব্যত্যয় ঘটলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতেই হবে।’

সংসদ সচিবালয়ের কমিটিতে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বাকি পাঁচ সদস্য হলেন সরকারদলীয় হুইপ মো. জি কে গউছ, রকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং জামায়াতের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান।

গণপূর্ত বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, লুই কানের নকশায় ভবনের কক্ষের সংখ্যা থাকার কথা চার শ। কিন্তু এখন আছে পাঁচ শতাধিক। সংসদ সচিবালয় বড় কক্ষগুলোতে কাঠের বিভাজন দিয়ে অসংখ্য ছোট কক্ষ তৈরি করা হয়েছে।

সংসদের দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক ব্যক্তি জানান, সংসদের মূল ভবনে চার শতাধিক কক্ষ থাকলেও মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদীয় কমিটির সদস্যদের রুম বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয় না। কোনো কোনো শাখা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি রুম বরাদ্দ নিয়েছে। আবার কোনো কোনো শাখার জন্য প্রয়োজনীয় রুম বরাদ্দ দেওয়া যায়নি। অধিবেশন চলার সময় সহায়তা প্রদানকারী একাধিক শাখা সংসদকক্ষের কাছাকাছি রুম বরাদ্দ পায়নি। আবার মূল ভবনের বাইরে সংসদ সচিবালয় এলাকায় গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয় থাকার পরেও মূল ভবনের মধ্যে বেশ কিছু কক্ষ সংস্থাটির জন্য বরাদ্দ দেওয়া আছে, যাকে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি বলে মনে করছেন সংসদের কর্তাব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, প্রয়োজন অনুযায়ী দেওয়া হলে মূল ভবনের ভেতরের সব সংসদীয় কমিটির সভাপতিকে রুম বরাদ্দ দেওয়া যাবে।

কার্য পরিধিতে আরও বলা আছে, প্রয়োজনবোধে কমিটি যেকোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সভায় আমন্ত্রণ জানাতে পারবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় নথি, তথ্য, ফ্লোর প্ল্যান ও প্রতিবেদন সংগ্রহের ক্ষমতাও থাকবে কমিটির।

অফিস আদেশে সুপারিশের প্রতিবেদন তৈরিতে কোনো সময়সীমা দেওয়া না হলেও কমিটি ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া অধিবেশনের সময়ের মধ্যেই বৈঠক করবে। এরই মধ্যে কমিটি অনানুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে। তথ্য নেওয়ার জন্য সাংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন বিভাগকে সার্ভে করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া আছে।

এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, ‘আমাদের সংসদে অনেক জায়গা আছে। কোনো দপ্তরের কাছে ৫০০ বর্গফুট, কারও কাছে ৫০ হাজার বা ১ লাখ বর্গফুট আছে। আবার দেখা যাচ্ছে, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বা সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা দুজন এক রুমে কাজ করছেন। সংসদীয় কমিটিও ঠিকভাবে সন্নিবেশিত করা হয়নি। তাই পুরো ভবন ঘুরে দেখে কোথায় কার কতটুকু জায়গা প্রয়োজন, কোন বিভাগে বেশি বা কম জায়গা দরকার এবং কোনটা কোন তলায় নেওয়া উচিত—তা বিচার-বিবেচনা করে রিপোর্টের মাধ্যমে পুনর্বিন্যাস করা হবে।’