লোকোমাস্টার (এলএম) গ্রেড-২ পদোন্নতি না দিয়ে চুক্তিভিত্তিক লোকোমাস্টার নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে রানিং স্টাফদের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অন্তত ৯টি ট্রেন বিলম্বিত হয়েছে। বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন থামিয়ে বিক্ষোভ করার কারণে যাত্রী দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলে লোকোমাস্টার ও সহকারী লোকোমাস্টার পদে দীর্ঘদিন ধরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শূন্যপদ রয়েছে। এতে পণ্য পরিবহন ও ট্রেন পরিচালনায় চাপ তৈরি হওয়ায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রেলওয়ে কয়েকটি পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে রানিং স্টাফরা আন্দোলনে নামেন।
আন্দোলনের জেরে সাময়িকভাবে দুই রানিং স্টাফকে বদলি করা হয়। পরে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেই বদলির আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী আন্দোলনের কারণে অন্তত ৯টি ট্রেন বিলম্বিত হয়।
তার মধ্যে আছে, সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৭৬) জয়দেবপুরে প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট, চিত্রা এক্সপ্রেস (৭৬৩) ধীরাশ্রম ও টঙ্গীতে মিলিয়ে প্রায় ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিট এবং লোকাল ট্রেন (৫০৮) কালুখালীতে প্রায় ৪৫ মিনিট বিলম্বিত হয়।
এ ছাড়া নকশীকাঁথা কমিউটার (২৬) ও টুঙ্গীপাড়া এক্সপ্রেস (৭৮৪) পোড়াদহে প্রায় ৪০ মিনিট করে বিলম্বিত হয়। বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস (৮০৪) রাজশাহী স্টেশনে প্রবেশের পর ওয়াশপিটে যাওয়ার অপেক্ষায় প্রায় ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিল। বনলতা এক্সপ্রেস (৭৯১) সরদহ রোডে প্রায় ৩৫ মিনিট, ঢালারচর এক্সপ্রেস (৭৮০) একই স্টেশনে প্রায় ৪৫ মিনিট এবং সাগরদাড়ি এক্সপ্রেস (৭৬১) মোবারকগঞ্জে প্রায় ১ ঘণ্টা বিলম্বিত হয়।
সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, আন্দোলনের মূল কারণ ছিল চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে রানিং স্টাফদের মধ্যে তৈরি হওয়া ভুল বোঝাবুঝি। তিনি বলেন, ‘তাদের ধারণা হয়েছিল, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলে পদোন্নতির সুযোগ কমে যাবে বা পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। বাস্তবে এমন কোনো পরিস্থিতি নেই। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি পরিষ্কার করেছি।’
জিএমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পশ্চিমাঞ্চলে লোকোমাস্টার (এলএম) অনুমোদিত পদ ৩৬৪, কর্মরত ১৭২, শূন্য ১৯২। সিনিয়র লোকোমাস্টার (এসএলএম) অনুমোদিত পদ ১৩৬, কর্মরত ১১৮, শূন্য ১৮। সহকারী লোকোমাস্টার (এএলএম) অনুমোদিত পদ ৪৮২, কর্মরত ৩৪৩, শূন্য ১৩৯।
ফরিদ আহমেদ আরও বলেন, ‘এতগুলো শূন্যপদ থাকার কারণে পদোন্নতির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একটি ভুল ধারণা তৈরি হয়েছিল, যা আমরা আলোচনা করে দূর করেছি।’
দুই কর্মীকে বদলির বিষয়ে জিএম বলেন, যাঁরা ট্রেন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছিলেন, তাঁদের মধ্য থেকে দুজনকে সাময়িকভাবে বদলি করা হয়েছিল। পরে তাঁদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ধর্মঘট প্রত্যাহার এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সমঝোতা হওয়ায় সেই বদলির আদেশও প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি জানান, আলোচনার পর রানিং স্টাফরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন এবং বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।