তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ভাষা, ধর্ম, লিঙ্গ ও জাতিসত্তার বৈচিত্র্যকে বিভাজনের হাতিয়ার নয়, বরং জাতীয় সম্পদে রূপান্তর করতে হবে। যারা বৈচিত্র্যকে বিভাজনের পথে নিতে চায়, তারা দেশবিরোধী। আর যারা দেশের প্রতিটি জাতিসত্তা ও সম্প্রদায়কে সম্মান করতে চায়, তারাই প্রকৃত দেশপ্রেমিক।’
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে সিএইচটি ওয়েলফেয়ার সোসাইটি আয়োজিত ‘বিঝু, বৈসুক, সাংগ্রাই, বিষু ও চাংক্রান পুনর্মিলনী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক উৎসব’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ একটি দেহের মতো। একটি দেহের প্রতিটি অংশ যেমন অপরিহার্য, তেমনি দেশের প্রতিটি জাতিসত্তা, ধর্মীয় ও ভাষাগত গোষ্ঠীও বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ধারণার মাধ্যমে তার সমাধান দিয়েছিলেন। এই দর্শনের ভিত্তিতে ভাষা, বর্ণ, ধর্ম বা জাতিসত্তা-নির্বিশেষে সব নাগরিক সমান মর্যাদার অধিকারী বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপির রাষ্ট্রনীতি উল্লেখ করে জহির উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে প্রত্যাবর্তনের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে পাহাড়ি ও সমতলের জনগণকে সমান নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং সরকার ভবিষ্যতেও সম-অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, যে সমাজ যত বেশি বৈচিত্র্য ধারণ করতে পারে, সেই সমাজ তত বেশি শক্তিশালী হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিভিন্ন ভাষা, বর্ণ ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থান দেশটিকে শক্তিশালী করেছে।
পিছিয়ে থাকা জাতিগোষ্ঠীগুলোকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ও কোটাব্যবস্থা থাকা উচিত উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সমান অবস্থানে থাকা মানুষের ক্ষেত্রে মেধাই একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে। কিন্তু পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে আনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া মেধাবিরোধী নয়; বরং জাতীয় সংহতির জন্য অপরিহার্য।
ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা প্রণয়নে পার্বত্য চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যদের যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগের পাশে সরকার থাকবে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রী জুলাই অভ্যুত্থান ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ সুষম ও সমতাভিত্তিক উন্নয়নে বিশ্বাসী। এই অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, বিশেষ করে, খেয়াং, বম ও চাক সম্প্রদায়ের মানুষকে দেশের মূলধারার উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে আমাদের সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, মাধবী মারমা ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মেজর (অব.) তপন বিকাশ চাকমা। এ ছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।