ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ওয়াকিটকি কেনায় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ অনুসন্ধানে একজন অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও একজন তদারকি কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে কমিশন।
আজ সোমবার দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বিষয়টি আজকের পত্রিকাকে জানিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও একটি দেশীয় কোম্পানিকে ডিএনসিসির ওয়াকিটকি সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়। কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে ওই কোম্পানি একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সনদ ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ক্রয় করা ওয়াকিটকির দাম অন্যান্য সরকারি সংস্থার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অস্বাভাবিক বেশি দামে ওয়াকিটকি কিনে সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় ডিএনসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ কেউ সরকারি দায়িত্বে থেকে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে অনিয়ম করেছেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ আগস্ট ডিএনসিসিতে এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালিয়েছিল দুদক। দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পরিচালিত ওই অভিযানে ওয়াকিটকি কেনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও ক্রয়প্রক্রিয়ার বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে অভিযোগ ও অভিযানে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। এর অংশ হিসেবে অনুসন্ধান ও তদারকি কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দুদক বলেছে, অনুসন্ধানে ওয়াকিটকি কেনার পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে, দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা, চীনা প্রতিষ্ঠানের সনদ ব্যবহারের বৈধতা, পণ্যের বাজারদর, অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্রয়মূল্য এবং ডিএনসিসির দেওয়া অর্থের যৌক্তিকতা যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে ক্রয়প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা ও সরকারি অর্থ ব্যয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে লাভবান হয়েছে কি না, তা-ও অনুসন্ধান করা হবে।