চট্টগ্রামের কালুরঘাটের স্বাধীনতা কমপ্লেক্স-এর নাম পরিবর্তন করেছে সরকার। গত ১২ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন শাখা ঐতিহাসিক এই কমপ্লেক্সের নাম বদলে জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম জেলার ঐতিহাসিক কালুরঘাটস্থ ‘স্বাধীনতা কমপ্লেক্স’টি (চট্টগ্রাম জেলার পাঁচলাইশ উপজেলাধীন চাঁনগাঁও মৌজার জেএল নম্বর-০৯, বিএস খতিয়ান নম্বর-০৩, দাগ নম্বর-১১৮৩৮, জমির পরিমাণ- ১৬ দশমিক ৩৭ একর) এখন থেকে ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ নামে অভিহিত হবে।
এর আগে গত ২৪ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র এবং শহীদ জিয়ার স্মৃতি সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানিয়েছিল সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র পরিদর্শনকালে সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেছিলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বীরত্বগাথা তুলে ধরতে উদ্যোগ জোরদার করা হবে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি সর্বজনীন জনযুদ্ধ, যার মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করে। এই স্বাধীনতার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস—১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনের সূচনা, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ, ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচন। এসব আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাঙালি জাতি স্বাধীনতার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছায়।
সে সময় তিনি আরও বলেন, ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর আক্রমণের পর দেশে যখন নেতৃত্বশূন্যতা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল, তখন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে নতুন গতি সঞ্চার হয় এবং জনগণের মধ্যে সাহস ও উদ্দীপনা ফিরে আসে। এ ছাড়া এখানে একটি আধুনিক স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন, শহীদ জিয়ার ভাস্কর্য নির্মাণ এবং ঐতিহাসিক ভাষণ সম্প্রচারে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।