সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় আজ সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখী মানুষের ভিড় বেড়েছে। গত দুই দিনের তুলনায় আজ যাত্রীর চাপ বেশি দেখা গেছে। তবে উত্তরাঞ্চলের তিনটি ট্রেন বিলম্বে ছেড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তিতেও পড়তে হয়েছে।
কমলাপুর রেলস্টেশনে সরেজমিন দেখা যায়, আজ সকাল পর্যন্ত প্রায় ১১টি ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। বেশির ভাগ ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেলেও তিনটি ট্রেন বিলম্বে ছেড়ে যায়।
ধূমকেতু এক্সপ্রেস সকাল ৬টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ছেড়ে যায় সকাল সাড়ে ৬টায়। নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও ছেড়ে যায় সকাল ৮টা ১০ মিনিটে। এ ছাড়া রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ছাড়ার নির্ধারিত সময় থাকলেও ট্রেনটির সম্ভাব্য ছাড়ার সময় দেওয়া হয় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট। এদিকে একতা এক্সপ্রেস ট্রেন সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও ১০টা পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মে আসেনি।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, আজ কমলাপুর স্টেশন থেকে মোট ৬৭টি ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাবে। এর মধ্যে ৪৪টি আন্তনগর ট্রেন, বাকিগুলো মেইল ও কমিউটার ট্রেন।
সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মজুড়ে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেনের যাত্রীদের উপস্থিতি ছিল বেশি। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেককে ট্রেনের অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখা যায়।
রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী মিজানুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ছুটি শুরু হয়েছে, পরিবার নিয়ে রংপুর যাচ্ছি। কিন্তু স্টেশনে এসে শুনলাম ট্রেন সময়মতো ছাড়বে না। পরিবার নিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, কিছুটা ভোগান্তি হচ্ছে। তবে ঈদে বাড়ি যাওয়ার আনন্দও আছে।’
একই ট্রেনের আরেক যাত্রী লিজা রহমান বলেন, ’উত্তরাঞ্চলের ট্রেনগুলোর সময়সূচি ঠিক থাকে না। আমরা গরমে কষ্ট করতে পারছি, কিন্তু বাচ্চাদের সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’
ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মো. কবীর উদ্দীন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ’এখন পর্যন্ত ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নভাবেই চলছে। বেশির ভাগ ট্রেন সময়মতো ছেড়ে যাচ্ছে। তবে রংপুর এক্সপ্রেস কিছুটা দেরিতে আছে। রেললাইনের ওপর অনেক জায়গায় মানুষ খড় শুকায়, এ জন্য ট্রেনকে গতি কমিয়ে চলতে হয়। এতে কয়েকটি ট্রেন দেরিতে এসেছে। এ ছাড়া যেসব ট্রেন আধা ঘণ্টা থেকে ৪০ মিনিট দেরিতে ছাড়ছে, সেগুলো মূলত অপারেশনাল ডিলে।’