বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় কোনো টেলিভিশন চ্যানেল যাতে মারামারির ছবি বা ভিডিও প্রচার করতে না পারে, সে জন্য টেলিভিশন চ্যালেন বন্ধ করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। আজ সোমবার তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও সড়ক পরিবহন এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এ-সংক্রান্ত একটি কল রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জমা দেওয়া হয়। পরে তা বাজিয়ে শোনানো হয়।
ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের চতুর্থ দিনে জমা দেওয়া ফোনালাপটি ২০২৪ সালের ২০ জুলাইয়ের। সেখানে ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশনার জবাবে আরাফাত বলেন, ‘আজকে যদি কোনো সংঘাত বা মারামারির ভিডিও ফুটেজ বা ছবি দেখায় (টেলিভিশন চ্যানেলগুলো), ওদেরকে রাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে ঘোষণা করা হবে এবং সারা জীবনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা কথা শোনে না, তাদের টিভি চ্যানেলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরাফাত কাদেরকে বলেন, ‘অফ করে দিছি গতকাল দুই-একটাকে। আজকেও বলে রাখছি, যেগুলা শুনবে না, অফ করে দিবে সাথে সাথে। আমি থ্রেট করে রাখছি আজকে। আর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উনাকে বসায় রাখছি যে আপনি একটানা দেখবেন। আমার কোনো পারমিশনের জন্য মেসেজ পাঠাবেন না। আপনাকে ঢালাও পারমিশন দিয়ে রাখলাম। আর আমার অনুমতি ছাড়া ওটা অন করবেন না আর।’
এই মামলায় ২ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয় ৪ আগস্ট থেকে। এই মামলায় অন্য আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
এ মামলার সব আসামিই পলাতক। গত ১৮ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। সে সঙ্গে পলাতক থাকা ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে গত ২২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।