হোম > জাতীয়

দেশে চিকিৎসকদের শূন্য পদ ১১ হাজার ৪৯৫টি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের অনুপস্থিতিতে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের বিপরীতে ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, চিকিৎসকের শূন্য পদের সংখ্যা ১১ হাজার ৪৯৫ টি।

সরকারের চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদসমূহ পর্যায়ক্রমে পূরণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের জনগণের জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত সংসদে প্রশ্নের জবাব দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা অনুযায়ী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যূনতম মানদণ্ড অনুসারে বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন বলে মোশারফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

পাবনা-২ আসনের শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ৩ বছর ধরে চাহিদার তুলনায় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও চিকিৎসা উপকরণের সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ ও ওষুধ কেনার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত মাঠপর্যায়ে সরবরাহ নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে বলে প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

মাদারীপুর-২ আসনের মো. জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজের আসনসংখ্যা ৫ হাজার ১০০ টি। বেসরকারি ৬৮টি মেডিকেল কলেজের আসন ৬ হাজার ২৭৮ টি। প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের সরকারি হাসপাতালে অনুমোদিত বেডের সংখ্যা ৭১ হাজার ৬৬০টি।

গোপালগঞ্জ-১ আসনের মো. সেলিমুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পিছিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালে সরকারের পক্ষ থেকে একটি পরিপূরক হাম-রুবেলা বিশেষ ক্যাম্পেইন বাতিল করা হয়। ফলে নিয়মিত টিকাদানের আওতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় এবং পরবর্তীতে দেশের শিশু ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে হামের প্রাদুর্ভাব মারাত্মক রূপ নেয়।