পিংক বাস
নগরীর ভেতরে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে আজ মঙ্গলবার থেকে রাজধানীসহ তিন শহরে চালু হলো বিআরটিসির বিশেষ মহিলা বাস সার্ভিস। গোলাপি রঙের কারণে এ বাসসেবাকে বলা হচ্ছে ‘পিংক বাস’ সার্ভিস। এর চালক ও কন্ডাক্টর উভয়েই নারী। শুরুতে ঢাকা, বগুড়া ও চট্টগ্রাম মহানগরে এই সার্ভিস চালু হয়েছে।
আজ আনুষ্ঠানিকভাবে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে পিংক বাস সেবার উদ্বোধন করেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। উদ্বোধনের পর বাসগুলো নির্ধারিত রুটে চলাচল শুরু করে।
গোলাপি রঙের বাসগুলোতে নারী যাত্রীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাসে ওঠা থেকে শুরু করে গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত যাত্রীরা নারী চালক ও কন্ডাক্টরের সেবা পাবেন।
বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে তিনটি বাসে ক্লোজড-সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা এবং প্রতিটি বাসে ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) সংযোজন করা হয়েছে। ভিটিএস থাকায় বাসগুলোর অবস্থান সার্বক্ষণিকভাবে চিহ্নিত করা যাবে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি বাসে এসব সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।
প্রাথমিকভাবে ঢাকার বিভিন্ন রুটে ১০টি এবং বগুড়ায় দুটি ও চট্টগ্রামে দুটি করে মোট ১৪টি বাস দিয়ে পিংক বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। বিআরটিসি জানিয়েছে, এ বাসের জন্য ১৪ জন নারী চালক ও ২৫ জন নারী কন্ডাক্টরকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১৩ রুটে এই বাস চলাচল করলেও পর্যায়ক্রমে রুট ও বাসের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থীসহ নিয়মিত গণপরিবহন ব্যবহারকারী নারীরা এ সার্ভিসে উপকৃত হবেন। বর্তমানে ভিড়ের কারণে সাধারণ বাসে উঠতে নারী যাত্রীদের সমস্যা হয়। বাসে উঠেও তারা অনেক সময় যৌন হয়রানিসহ অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের শিকার হয়। বিভিন্ন কারণে অনেক বাসের কর্মীরা নারীদের বাসে তুলতেও চায় না। নতুন এ সার্ভিস চালুর ফলে গণপরিবহনে নারীদের স্বাচ্ছন্দ্য কিছুটা হলেও বাড়বে বলে আশা করছে বিআরটিসি।
প্রথম দিনেই পিংক বাসে অনেক নারী যাত্রীকে চলতে দেখা গেছে। নারী চালক ও কন্ডাক্টরের সেবা নিয়ে স্বস্তির কথা জানিয়েছেন যাত্রীরা। তবে নতুন এ সেবা নিয়মিত ও সময়মতো পরিচালনা করা হবে কি না, সেটিই এখন তাদের প্রশ্ন।
রাজধানীর সড়কে গত তিন দশকে একাধিকবার নারীদের জন্য আলাদা বাসসেবা চালু হলেও তা বেশিদিন টেকেনি। ১৯৯৮ সালেই বিআরটিসি পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম নারী বাস সার্ভিস চালু করেছিল। পরে বিভিন্ন সময়ে রুট ও বাস বাড়ানো-কমানো হলেও অনিয়মিত চলাচল ও দুর্বল ব্যবস্থাপনায় সেবা সীমিত হয়ে পড়ে।
২০১৮ সালে বেসরকারি উদ্যোগে ‘দোলনচাঁপা’ নামে চারটি বাস চালু হয়েছিল। তবে ২০২২ সালের অক্টোবরে সেই সেবাও বন্ধ হয়ে যায়।
আজ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিআরটিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, আজ যে সেবা চালু হলো, দুই মাস পর সেই সেবার মান আরও উন্নত করতে হবে। শুধু উদ্বোধন করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। অনেক উদ্যোগ অতীতে উদ্বোধনের পর কয়েক মাস যেতে না যেতেই কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমান সরকার এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে দেবে না।
মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে পিংক বাসের রুট ও সংখ্যা বাড়ানো হবে। পরিকল্পিত ২০০ ইলেকট্রিক বাসের মধ্যে ১০০টি নারীদের জন্য বিভিন্ন রুটে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিভাগেও এ সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর বলেন, আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এসব বাসে ই-টিকেটিং, সিসি ক্যামেরা এবং ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
পিংক বাসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।