ফেনী ও পঞ্চগড় জেলায় নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আলোচিত দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। তাঁরা হলেন ফেনীর এসপি হিসেবে বদলির আদেশ হওয়া মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান ও পঞ্চগড়ের এসপি মো. মিজানুর রহমান।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা পৃথক দুই আদেশে তাঁদের প্রত্যাহার করা হয়।
আদেশে বলা হয়, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ১০ মের মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে রিপোর্ট করতে হবে। অন্য আদেশে পঞ্চগড়ের এসপি মো. মিজানুর রহমানকে পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে একই সময়ের মধ্যে সদর দপ্তরে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।
এর আগে ৫ মে দেশের ১২টি জেলায় পুলিশ সুপার পদে রদবদল করা হয়। ওই আদেশে মাহবুব আলম খানকে ফেনীর এসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল।
তবে তাঁর পদায়নের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, তিনি দুটি হত্যা মামলার আসামি থাকা অবস্থায় ফেনীর এসপি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
এ ঘটনায় ৭ মে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়। রিটে তাঁর নিয়োগ বাতিল, সাময়িক বরখাস্ত ও পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু জনস্বার্থে রিটটি করেন।
এদিকে এসপি মিজানুর রহমানকে অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণ আচরণের অভিযোগে অতীতে সরকার তাঁকে একবার শাস্তি দিয়েছিল। ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর সরকারের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে বিভাগীয় শাস্তি দেওয়া হয়। শাস্তি হিসেবে তাঁর এক বছরের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়েছিল।
এই কর্মকর্তাকেই আবার পঞ্চগড় জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) করা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। মিজানুর রহমান বিসিএস পুলিশের ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তাঁর বাড়ি বরিশাল জেলায়। পঞ্চগড়ে যোগদানের আগে তিনি ঢাকায় স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন-১-এ সহ-অধিনায়ক (পুলিশ সুপার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।