রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের মুলতবি সংলাপ শুরু হতে যাচ্ছে আগামী মঙ্গলবার। এদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এ আলোচনা শুরু হবে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে ৪৫টি অধিবেশনে সংলাপ করে। সেখানে অনেক বিষয়ে ঐকমত্য হলেও কমিশনের মৌলিক প্রস্তাবে দ্বিমত ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর। সেসব প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য পৌঁছাতে ২ মে থেকে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পরদিন বিষয়ভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে সংলাপের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। তিনটি বিষয়ে আলোচনার পরে ওই দিন মুলতবি করা হয়। মুলতবি বৈঠক শুরু হবে ১৭ জুন থেকে। আগামী মঙ্গলবারের বৈঠকের বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, আগামী ১৮ ও ১৯ জুন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করা হবে।
গত ৩ মের আলোচনার সূচিতে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মনোনয়ন এবং সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। স্থায়ী কমিটির সভাপতি মনোনয়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য দেখা গেলেও ৭০ অনুচ্ছেদ এবং নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে দ্বিমত দেখা যায়। ১৭ জুনের বৈঠকে নিষ্পত্তি না হওয়া বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হবে কমিশনের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়।
এ ছাড়া ১৭ জুন দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ (নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ) এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হবে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবে দ্বিকক্ষ সংসদের কথা বলা হয়েছে। যার মধ্যে নিম্নকক্ষ ৪০০ আসনের এবং উচ্চকক্ষ ১০৫ আসনের। যার মধ্যে নিম্নকক্ষের ৩০০ আসন বিদ্যমান নিয়মে ভোটের মাধ্যমে এবং ১০০ সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোটের কথা বলা হয়েছে। উচ্চকক্ষের ১০০ আসন সংখ্যানুপাতিক এবং ৫ আসনে রাষ্ট্রপতির মনোনয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ নিয়ে অধিকাংশ দল একমত হলেও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে দ্বিমত দেখা গেছে। বিএনপি উভয় কক্ষ বিদ্যমান পদ্ধতিতে নির্বাচনের কথা বলেছে। যার মধ্যে ৩০০ আসনের ভোট, সংরক্ষিত আসন ও উচ্চ কক্ষে বিদ্যমান আসন অনুপাতে বণ্টনের প্রস্তাব করেছে। জামায়াত উভয় কক্ষ সংখ্যানুপাতিকে করার প্রস্তাব দিয়েছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবে এনসিপি একমত।
আপিল বিভাগের বিচারকদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ বিচারককে পরবর্তী প্রধান বিচারপতি নিয়োগের প্রস্তাব করেছিল সংবিধান সংস্কার কমিশন। কমিশনের প্রস্তাবে জামায়াত ও এনসিপি একমত প্রকাশ করেছে। তবে বিএনপির প্রস্তাবে বলা হয়েছে জ্যেষ্ঠ তিনজন বিচারক থেকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে।