লিবিয়ার ত্রিপলী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহযোগিতায় বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টায় তাঁদের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে একজন গুরুতর অসুস্থসহ মোট ২৭ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তাঁরা ত্রিপলীসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে তাঁরা নানা ধরনের ঝুঁকি ও মানবিক সংকটের মধ্যে ছিলেন।
প্রত্যাবাসনের আগে লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ দূতাবাস প্রাঙ্গণে তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রি-ডিপার্চার ব্রিফিং দেন। তিনি জানান, লিবিয়ায় বিপদগ্রস্ত ও পাচারের শিকার বাংলাদেশিদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দূতাবাস সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। একই সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকারমূলক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বহির্গমন ভিসা সহজীকরণ এবং প্রত্যাবাসন ফ্লাইটের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দূতাবাস লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইওএমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। দেশে ফিরে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে অভিবাসীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তিনি দালালচক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) এবং প্রথম সচিব (শ্রম) উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে আইওএমের সহযোগিতায় এ পর্যন্ত চারটি ফ্লাইটে মোট ৬৮৯ জন বাংলাদেশিকে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক এবং স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনে আগ্রহী বাংলাদেশিদের নিবন্ধন ও প্রত্যাবাসনে দূতাবাস নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।