হোম > জাতীয়

পুলিশি ব্যবস্থার ধরন দেখে গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত: স্পিকার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও গাজী নজরুল। ছবি: সংগৃহীত

দল বহিষ্কার করলেও সংসদ সদস্য (এমপি) পদ শূন্য হয় না বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, পুলিশি ব্যবস্থার ধরন দেখে জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আজ মঙ্গলবার গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে জানতে চাইলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করার কথা জানিয়ে জামায়াত চিঠি দিয়েছে। কিন্তু দল বহিষ্কার করলে কারও সংসদ সদস্য পদ যায় না। কোনো এমপি নিজে দল থেকে পদত্যাগ করলে বা দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়।

আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তারের বিষয়ে ইঙ্গিত করে স্পিকার জানান, এখন পুলিশ কী ব্যবস্থা নেয়, তাঁরা সেটা দেখার অপেক্ষায় আছেন। পুলিশ কী ব্যবস্থা নিল, তা দেখে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হবে। তখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তিনি বলেন, আরেকটি হতে পারে, আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।

দলের তদন্তে গাজী নজরুল ইসলামের নৈতিক স্খলনের প্রমাণ হয়েছে দাবি করে গত ২২ জুলাই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত। এই তথ্য জানিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে গত ২৩ জুলাই জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিল দলটি।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ন্যাম ভবনে গাজী নজরুলের ফ্ল্যাট থেকে গত রোববার তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মরিয়মের বাবার করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গতকাল সোমবার নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এক দিনের রিমান্ড শেষে আজ নজরুলের প্রথম স্ত্রীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গাজী নজরুল গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তাঁর সংসদ সদস্য পদের কী হবে, সে আলোচনা আবার সামনে এসেছে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হবে। আর সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে কি না, সে সম্পর্কে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। এ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া ও এই পদে থাকার বেশ কিছু যোগ্যতার কথা বলা আছে। সেগুলোর একটি হলো নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত এবং তাঁর মুক্তির পর পাঁচ বছর পার না হলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়া ও পদে থাকার অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের পর তাঁকে সংসদীয় কমিটিতে না রাখার জন্যও সরকারি দলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিল জামায়াত। সেই পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে দুটি সংসদীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু ৭ সেপ্টেম্বর সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটিতে তাঁর নাম রাখা হয়েছিল। পরে জামায়াতের আপত্তির কারণে তাঁর নাম বাদ দিয়ে ওই কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।