সরকার প্রতি বছর ১ হাজার মেগাওয়াট করে সৌর বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়িয়ে পাঁচ বছরে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আইইবি নতুন ভবনের কাউন্সিল কক্ষে আজ সোমবার ‘রোডম্যাপ টুওয়ার্ডস টেন থাউজেন্ড মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার’ শীর্ষক সেমিনারে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
সৌর বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের সদিচ্ছার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্বে আসার পর তাঁর দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকেই সৌর বিদ্যুতের প্রসঙ্গটি তুলেছেন। কী উপায়ে সৌর বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো যায়, তার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা চেয়েছেন। আগামী ৫ বছরে সৌর শক্তি থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর ১ হাজার মেগাওয়াট করে সৌর বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকার নিয়েছে। সে জন্য বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
ব্যবসায়িক ও লাভজনক মডেল অনুসরণ করে ঢাকা শহরসহ দেশের সব জায়গায় বাড়ির ছাদে সৌর বিদ্যুতের প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা তুলে ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘ঢাকাকে যদি ছয়টি বা আরও কয়েকটি ব্লকে ভাগ করা যায়, একেকজন বিনিয়োগকারীকে যদি একেকটি ব্লক দিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে বিনিয়োগকারী নিজে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে বেসরকারি পর্যায়ে বিক্রি করবে। এখানে সরকার হাত দেবে না। আমলাতন্ত্র কোথাও ঠুকলেই সেখানে কাজ স্লো হয়ে যায়। এভাবে আমরা সৌর বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াব। এখন প্রয়োজন হচ্ছে সৌর প্রকল্পকে করমুক্ত ঘোষণা করা। কেউ যদি এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে ব্যবসায় আসে ৫ বছর পর সরকার তাঁর কাছ থেকে ইনকাম ট্যাক্স আকারে আদায় করতে পারবে। তাতে কোনো সমস্যা দেখছি না।’
বাসাবাড়ির ছাদে সৌর বিদ্যুতের প্যানেলের প্রচলন করার ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘কেউ বাসায় নির্দিষ্ট পরিমাণ সৌর বিদ্যুতের প্যানেল বসালে তাঁর হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ বা কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এতে করে সৌর বিদ্যুৎ খাতে বিপ্লব ঘটে যাবে। সরকার নীতি সহায়তা দেবে, এটাই আমাদের পলিসি।’
সরকারি জমিতে সৌর প্যানেল বসানোর আরেক পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, রেল মন্ত্রণালয়ের প্রচুর জমি খালি পড়ে আছে। মানুষ দখল করে খাচ্ছে। সড়ক বিভাগের প্রচুর জমি খালি পড়ে আছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রচুর খাস জমি আছে। এসব জমিতে সৌর প্যানেল বসানোর চিন্তা করা হচ্ছে।
বিগত সরকার অর্থ পাচারের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে আমদানি নির্ভর করে রেখেছিল মন্তব্য করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, এ কারণেই এই খাতে এখন ৫৬ হাজার কোটি টাকার দায় হয়ে গেছে। এই দায় এখন সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। বিগত সরকারের সময়ে তারা সৌর বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর শর্ত দিয়েছিল। কিন্তু কেউ ঠিকমতো সোলার প্যানেল বসায়নি। প্রদর্শনের জন্য বসিয়েছিল, যা কাজে আসেনি। এখন সেখানে ধুলোবালি পড়ে আছে।