নির্বাচিত এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ডিও (চাহিদাপত্র) লেটার উপেক্ষা করে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপির সুপারিশকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠনে প্রশাসনিক অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদে বিশেষ অধিকার হরণের নোটিশ দিয়েছেন তিনি।
তবে বিষয়টি সংসদের হস্তক্ষেপের উপযোগী নয় উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার নোটিশ দুটি নাকচ করে দিয়েছেন। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে গতকাল রোববার কার্যপ্রণালি বিধির ১৬৪ বিধিতে পাওয়া বিশেষ অধিকার প্রশ্নের নোটিশ নিষ্পত্তির সময় এ সিদ্ধান্ত জানান ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
প্রথম নোটিশে মুজিবুর রহমান উল্লেখ করেন, সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী সংসদ সদস্যের অধিকার রক্ষা করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকার রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য তিনি শতাধিক ডিও লেটার দিয়েছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে জানায় যে সরকারি দলের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপির ডিও লেটার ছাড়া নির্বাচিত এমপির সুপারিশ বাস্তবায়ন করা যাবে না। মুজিবুর রহমান একে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
দ্বিতীয় নোটিশে জামায়াতের এই এমপি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী এলাকার ৫২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডির সভাপতি নিয়োগের জন্য শতাধিক সুপারিশপত্র বা ডিও লেটার জমা দিলেও একটিও বাস্তবায়ন করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরকারদলীয় সদস্যদের ‘সন্ত্রাসের ভয়ে’ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে তিনি দাবি করেন। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি তাঁর অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবি জানান।
নোটিশ দুটির বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করা সব জনপ্রতিনিধির লক্ষ্য। নির্বাচিত ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য উভয়ই এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারেন।