হোম > জাতীয়

দুর্যোগের পর থেকে বন্ধ নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ, দেশে লোডশেডিং কমছে না

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

প্রতীকী ছবি

পাহাড়ি ঢলে নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চল লন্ডভন্ড হওয়ার পর দেশটি থেকে ভারতীয় গ্রিড হয়ে আসা ৩৮ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেছে। গ্যাস ও কয়লার সরবরাহ কম থাকায় এই দুই উৎস থেকেও কমেছে বিদ্যুতের জোগান। ফলে মাত্র ১৫ হাজার মেগাওয়াটের চাহিদা পূরণ করতে গিয়েও ঘণ্টায় আড়াই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

এদিকে গ্রাম ও শহরে বিদ্যুতের সমবণ্টন শুরু হওয়ার পর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিদ্যুতের আসা-যাওয়া কিছুটা কমে এসেছে।

তবে বিপত্তি শুরু হয়েছে শহরাঞ্চলে। দিনে দুই থেকে তিন বার আবার কোথাও চারবারও বিদ্যুৎ যাচ্ছে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে। ফলে লোডশেডিং এখন মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তির অংশ হিসেবে স্থায়ী রূপ লাভ করেছে।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, দুটি এলএনজি টার্মিনাল সচল হলেও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এলএনজি কার্গো পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে কিছুটা মধ্যম সক্ষমতায় টার্মিনালগুলো চালু রাখা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় দুটি এফএসআরইউ থেকে মোট ৭২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে, যেখানে মোট সক্ষমতা ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ওই সময় এলএনজিসহ মোট সরবরাহ ছিল ২৩৪০ মিলিয়ন ঘনফুট, যেখানে সংকট শুরুর আগে গড় সরবরাহ ছিল ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

পিডিবির সদস্য উৎপাদন জহুরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নেপালের কিছু অংশে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। নেপালের বিদ্যুৎ ভারতের গ্রিড ব্যবহার করে বাংলাদেশে আসছিল। এখন নেপাল অন্য একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ভারতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে চাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়া গেলেই সরবরাহ শুরু হবে।

এদিকে আজ শনিবার বেলা ২টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৮৫৭ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১৩ হাজার ৬১০ মেগাওয়াট আর ঘাটতি ২২৪৭ মেগাওয়াট। ওই সময় গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৮৬০ মেগাওয়াট, তরল জ্বালানি থেকে ২ হাজার ৫৫ মেগাওয়াট, কয়লাকেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৫৭৭ মেগাওয়াট এবং আদানির কেন্দ্র থেকে ৯২৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। এ ছাড়া সৌরভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৬০০ মেগাওয়াট এবং বায়ুভিত্তিক কেন্দ্র থেকে আসছিল ১৭ মেগাওয়াট।

প্রসঙ্গত গত বুধবার চীন নেপাল সীমান্ত অঞ্চলে ভোতিকোশি নদীর উৎসমুখে হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক ঢলে নেপালের রাসুয়া, নুওয়াকোট এবং ধাদিং জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ লন্ডভন্ড হয়ে যায়। পাহাড়ি ঢলে সৃষ্টি মানবিক বিপর্যয়ের কারণে পরের দিন বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় নেপাল থেকে আসা ৩৮ মেগাওয়াট জলবিদ্যুতের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

আজ শনিবার বিকেল পর্যন্ত আক্রান্ত এলাকায় ছয় শতাধিক মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে কয়েক হাজার মানুষ।