দেশের চলমান সংকটসহ সার্বিক বিষয়ে সরকার ও দলের বাইরেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নাগরিক সমাজে বিভিন্নভাবে সক্রিয় ব্যক্তিরা এই মতবিনিময়ে অংশ নেন। সেখানে সংকট মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সরকার ও দলের অবস্থান দেশবাসীর সামনে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরারও তাগিদ দেন তিনি।
মতবিনিময়ে অংশ নেওয়া একাধিক ব্যক্তি আজকের পত্রিকাকে জানান, মতবিনিময়ে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা অংশ নেন। সরকারের ও দলের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও সেখানে ছিলেন। কোনো বিষয়কে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন না করে, সমাজের বিদ্যমান ধারণাকে অস্বীকার না করে বাস্তবতার নিরিখে যৌক্তিক ও তথ্যভিত্তিক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকার ও দলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি আজকের পত্রিকাকে বলেন, সরকার ও দলের অবস্থান দেশবাসীর সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে কোনো কিছু বাড়িয়ে বলা বা অতিরঞ্জিত করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি। ওই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘অতিরঞ্জিত যেমন করা যাবে না, আবার সমাজের বিদ্যমান ধারণাকেও অস্বীকার করা যাবে না। সমাজের ধারণাকে বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবতার নিরিখে বলতে হবে। টক শো বলেন আর টক শোর বাইরে বলেন, যা বলার যৌক্তিকভাবেই বলতে হবে। তথ্যভিত্তিক বলতে হবে।’
মতবিনিময়ে অংশ নেওয়া বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের জানিয়েছেন, তিনি একা সরকারের কাজ এগিয়ে নিতে পারবেন না। সরকারের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টাকে সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় এগিয়ে নিতে হবে। ওই নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন—আমি একা পারব না, আপনারা যদি সহযোগিতা না করেন। আপনারাই বলছেন, আমার বিষয়ে মানুষের ধারণা ইতিবাচক। আমি একা ইতিবাচক হলে তো হবে না। আমি একা তো পারব না। সমন্বিত প্রচেষ্টা লাগবে। সরকারের চেষ্টাকে তুলে ধরতে হবে যৌক্তিকভাবে।’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ মতবিনিময়ে অন্তত ৬০ থেকে ৭০ জন অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ছাড়াও কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ছিলেন।
মতবিনিময়ে দেশের বিদ্যমান বিভিন্ন সংকট, সরকারের কর্মকাণ্ড, জনমনে তৈরি হওয়া বিভিন্ন ধারণা এবং সেসব বিষয়ে সরকারের অবস্থান কীভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরা হবে—এসব বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানান অংশগ্রহণকারীরা। আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বাস্তব পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়ে সরকারের কাজ ও অবস্থান ব্যাখ্যা করার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল, সরকারের উদ্যোগকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হলে তা হতে হবে বাস্তবসম্মত, যুক্তিনির্ভর ও তথ্যভিত্তিক। একই সঙ্গে জনমনে থাকা প্রশ্ন, উদ্বেগ বা ধারণাগুলোকে পাশ কাটিয়ে নয়, বরং সেগুলো বিবেচনায় নিয়েই বক্তব্য দিতে হবে।
এদিন বিকেলে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্ভুক্ত মসজিদ ও মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে অনুদানের চেক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই অনুষ্ঠানে চলতি বছরই ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যা বৈশ্বিক, যার প্রভাব বাংলাদেশেও চলছে। সরকার চেষ্টা করছে এই সমস্যা সমাধানের। দেশের ১৩০টি গ্যাসকূপ অনুসন্ধানের চেষ্টা করছে সরকার বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, তেল-বিদ্যুতের মতো গ্যাস নিয়ে কিছু অসাধু লোক অবৈধ কাজ করছে। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। যারা অবৈধ কাজ করবে, অন্যায় করবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ অবৈধভাবে কাউকে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।
বিগত সময়ে রাষ্ট্রের সম্পদ ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ কেউ যাতে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে সে জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার।