সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের স্ত্রী ফাতেমা সেলিম ও তাঁর তিন সন্তানকে সম্পদ বিবরণী দিতে নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁদের নামে জ্ঞাত আয়ের তুলনায় বেশি সম্পদ থাকায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আজ মঙ্গলবার দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাঁদের বিরুদ্ধে এর আগেও সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্পদ বিবরণীটি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা তাঁর পক্ষে কেউ গ্রহণ না করায় আদেশসহ লটকিয়ে বা টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
দুদক সূত্র জানায়, সেলিমের স্ত্রী ফাতেমা সেলিমের নামে জ্ঞাত আয়ের তুলনায় ১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৩৫৫ টাকার বেশি সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের সঙ্গে তাঁর আয়ের সামঞ্জস্য না থাকায় তাঁর কাছে লটকিয়ে জারির মাধ্যমে সম্পদ বিবরণী চাওয়া হচ্ছে।
একইভাবে শেখ সেলিমের ছেলে শেখ ফজলে ফাহিমের নামে আয়ের তুলনায় ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ৩৬ টাকা ও অপর ছেলে শেখ ফজলে নাঈমের নামে ১১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৪৪ টাকার অতিরিক্ত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক।
এ ছাড়া সেলিমের মেয়ে শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়ার নামে আয়ের তুলনায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকার বেশি সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুদক।
শেখ সেলিমের স্ত্রীসহ চারজনের নামে বা বেনামে থাকা সব সম্পদের তথ্য জানতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬ (১) ধারায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের উপপরিচালক মো. খায়রুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল অভিযোগটি অনুসন্ধান করছে। দলের অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক বিলকিস আক্তার ও উপসহকারী পরিচালক এলমান আহাম্মদ অনি।